আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ক্ষতিপূরণ মিললেও মেলেনি দেহাংশ, শনাক্তকরণের অপেক্ষায় ২৭ পরিবার
আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও নিখোঁজ ২৭ জন কর্মীর মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভস্মীভূত গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো এতটাই বিকৃত যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নির্ধারণ আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। বারুইপুর মহকুমা পুলিশ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রিয়জনের মৃত্যুর সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়াই পরিবারগুলো এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই ক্ষতিপূরণ স্বস্তি আনতে পারেনি। মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের শোকাতুর স্বজনরা জানিয়েছেন, দেহ হাতে না পাওয়ায় তারা শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বা পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম সম্পন্ন করতে পারছেন না, যা তাদের মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ইতিমাজেই গুদাম মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আগুনের উৎস সন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতের সঠিক সংখ্যা এবং পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। আপাতত পুলিশের ফোনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা, যাতে অন্তত শেষবারের মতো প্রিয়জনের অবশিষ্টাংশটুকু দাহ করার সুযোগ পান।

