লেটেস্ট নিউজ

আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশ কি থমকে যাচ্ছে? আজই এই ৫টি প্রশ্ন করা বন্ধ করুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সন্তানের সাথে কথা বলার সময় আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু প্রশ্ন করে ফেলি, যা তাদের কচি মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (Piediatrician) ডঃ অজয় প্রকাশ সম্প্রতি অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, এমন ৫টি নির্দিষ্ট প্রশ্ন রয়েছে যা শিশুর মানসিক ও আবেগীয় বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ডেইলিহান্ট পাঠকদের জন্য সেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১. “কাকে বেশি ভালোবাসো, মা না কি বাবাকে?”

এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের একটি প্রশ্ন। এই ধরনের দোটানায় না ফেলে বরং তাদের বলুন, “তুমি কত ভাগ্যবান যে মা এবং বাবা দুজনেই তোমাকে খুব ভালোবাসেন।” এতে শিশুর মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি হয়।

২. “বড় হয়ে কী হতে চাও?”

খুব ছোটবেলা থেকেই পেশা বা ক্যারিয়ার নিয়ে চাপ দেওয়া একদম অনুচিত। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা না বাড়িয়ে বরং বর্তমান নিয়ে কথা বলুন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, “আজকাল কোন জিনিসগুলো তোমার সবচেয়ে ভালো লাগছে?” বা “নতুন কী শিখলে আজ?”

৩. “এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারো না কেন?”

শিশুরা স্বভাবতই চঞ্চল। বারবার তাদের চঞ্চলতা নিয়ে খোঁটা দিলে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এর বদলে আপনি বলতে পারেন, “তোমার কি একটু এদিক-ওদিক হাঁটাচলা বা ব্রেক প্রয়োজন?” এতে শিশু নিজেকে অপরাধী মনে করবে না।

৪. “এত বড় হয়েছ, তাও কেন বাচ্চার মতো করছ?”

বয়স বাড়লেও শিশুদের মাঝে মাঝে আবেগের বহিঃপ্রকাশ বা জেদ থাকতেই পারে। তাদের ওপর বয়সের দোহাই দিয়ে কটাক্ষ না করে বরং কোমলভাবে বলুন, “মনে হচ্ছে তোমার এখন একটু আদর বা স্বস্তির প্রয়োজন।” তাদের আবেগকে মর্যাদা দিন।

৫. “তোমার হয়েছেটা কী, এমন ব্যবহার কেন করছ?”

শিশুর আচরণের কারণ না জেনেই তাকে দোষারোপ করবেন না। তার অদ্ভুত আচরণের পেছনে কোনো কষ্ট বা ভীতি থাকতে পারে। তাকে আশ্বস্ত করে বলুন, “আমি বুঝতে পারছি তুমি কোনো সমস্যায় আছো, আমি সবসময় তোমার পাশে আছি।”

বিশেষজ্ঞের অভিমত

অভিভাবকদের মনে রাখা প্রয়োজন, বড়দের সামান্য একটি কথা শিশুর মনে যেমন শান্তি দিতে পারে, তেমনই ভুল প্রশ্ন তাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই কথা বলার আগে সচেতন হওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *