আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ না পেয়ে থাকলে আরও বেশি অর্থ প্রদানের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং বা হাতে করে আবর্জনা ও মল পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত থাকাকালীন মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঐতিহাসিক স্পষ্টীকরণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের রায়ের আগে যদি কোনো পরিবারকে কোনো প্রকার অনুদান (ex gratia) না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সেই মৃত্যুর জন্য ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বর্ধিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্পষ্টীকরণ কেন প্রয়োজন ছিল?
গত ২০ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০২৩ সালের রায়ের আগে যে সমস্ত ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে, সেই মামলাগুলি পুনরায় খোলা হবে না। আসলে, ২০২৩ সালের ওই রায়ের পর বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টগুলি ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে আগে মিটে যাওয়া মামলাতেও নতুন করে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছিল। ফলে ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড নির্ধারণে একটি অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, যা দূর করতেই শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপ।
নালসার আবেদন ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি (NALSA) হাইকোর্টগুলোর ভিন্ন ভিন্ন রায়ের প্রসঙ্গ টেনে একটি আবেদন দাখিল করেছিল। নালসার পক্ষে আইনজীবী রশ্মি নন্দকুমার জানান, আদালতের সামনে দুটি বিকল্প ছিল— হয় ২০২৩-এর ২০ অক্টোবরের আগে ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে, অথবা তারা আর কোনো অতিরিক্ত অর্থ পাবে না।
আদালতের সহায়তাকারী বা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ সিনিয়র অ্যাডভোকেট কে পরমেশ্বর উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের একটি রায় অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতো। যদি সেই নির্দেশ ইতিমধ্যে পালন করা হয়ে থাকে, তবে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে যদি ২০২৩ সালের রায়ের আগে মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও পরিবারগুলো আজ পর্যন্ত কোনো অর্থ না পেয়ে থাকে, তবে তারা নতুন নিয়ম অনুযায়ী বর্ধিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।
মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই
২০২৩ সালের যুগান্তকারী রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, যেকোনো মূল্যে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং বা নর্দমা পরিষ্কারে মৃত্যু বন্ধ করতে হবে। বিচারপতিরা অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন:
“আমাদের এই লড়াই অর্থ বা ক্ষমতার জন্য নয়, এ হলো স্বাধীনতার লড়াই। এটি মানুষের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই বিশাল জনসংখ্যার কাছে আমরা ঋণী, যারা বছরের পর বছর অদৃশ্য এবং অবহেলিত থেকে অমানবিক পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলিত হয়ে রয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারি তথ্য
২০২৩ সালের ওই নির্দেশে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে দেশজুড়ে হাতে মল পরিষ্কার করার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একটি সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার একটি হলফনামায় জানিয়েছে যে, দেশের ৭৭৫টি জেলার মধ্যে ৪৬৫টি জেলায় এমন কোনো কর্মীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৬৪৩টি জেলা ইতিমধ্যেই নিজেদের এলাকায় “শূন্য ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার” সার্টিফিকেট আপলোড করেছে।
তবে আদালতের এই নতুন নির্দেশিকার ফলে সেই সমস্ত বঞ্চিত পরিবারগুলো আশার আলো দেখছে, যারা প্রিয়জনকে হারিয়েও এতদিন কোনো সরকারি সহায়তা পায়নি।

