আবাসের ঘর নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল টানাপোড়েন নাকি মানসিক চাপ! গোয়ালঘরেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার বৃদ্ধার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পান্ডবেশ্বরের বৈদ্যনাথপুরের বেলডাঙায় আবাসের ঘর পাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। যে গোয়ালঘরটিকে নিজের বাড়ি দাবি করে সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছিলেন সুন্দরা সূত্রধর নামে এক বৃদ্ধা, সেই গোয়ালঘরের বাঁশের খুঁটি থেকেই উদ্ধার হলো তাঁর নিথর দেহ। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে।
রাজনীতির দাবার ঘুঁটি যখন সাধারণ মানুষ
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে, যখন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সুন্দরা সূত্রধর অত্যন্ত গরিব এবং গোয়ালঘরেই বসবাস করেন, অথচ তিনি সরকারি আবাস যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন না। জিতেন্দ্র তিওয়ারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁকে ঘর দেওয়া হবে।
এর ঠিক পরেই পালটা আসরে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই বৃদ্ধার একটি পাকা বাড়ি রয়েছে এবং টাকার বিনিময়ে বিজেপি তাঁকে দিয়ে এই ভিডিও করিয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের এই ভিডিও যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন সুন্দরা দেবী। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই টানাপোড়েন সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
উত্তপ্ত পান্ডবেশ্বর ও তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর
শনিবার সকালে বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর চাউর হতেই উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়েই এক নিরীহ প্রাণ গেল। উত্তেজিত গ্রামবাসী স্থানীয় তৃণমূল কর্মী নীতু অধিকারীর বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দায় কার? তুঙ্গে তরজা
মৃতার ছেলে দেব সূত্রধর এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মায়ের এই অবস্থার জন্য জিতেন্দ্র তিওয়ারি দায়ী। আমি ওঁর গ্রেপ্তারির দাবি জানাচ্ছি।” অন্যদিকে, জিতেন্দ্র তিওয়ারি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন শাসকদলের দিকে। তাঁর দাবি, “একজন গরিব মানুষ নিজের কষ্টের কথা বলবেন এটাই কি তাঁর অপরাধ? তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়া মানসিক চাপের কারণেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে মানসিক অবসাদ থেকেই এই ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।” বর্তমানে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভিডিও বিতর্কের পিছনে আসল সত্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

