লেটেস্ট নিউজ

‘আমাদের আছে শুধু মানবতা’, দেশের প্রথম জাত-হীন গ্রামের ঘোষণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘গল্প নয় ভাই, কল্পনা নয়/ স্বপন বুড়ো এসে/ আমায় নিয়ে উধাও হলো/ সব পেয়েছির দেশে’। সেই সব পেয়েছির দেশটা কোথায়? তার ঠিকানা লেখেননি সুনির্মল বসু। তবে সেটা যে মহারাষ্ট্রের অহল্যানগর জেলার সৌন্দলা গ্রাম, সেটা নিশ্চিত। এই গ্রামে অনার কিলিং নেই, জাতপাত নেই, বিভেদ নেই হিন্দু মুসলমানে।

গত বৃহস্পতিবার সৌন্দলাকে জাতপাত মুক্ত গ্রাম বলে ঘোষণা করেছেন সরপঞ্চ শরদরাও আরগাদে। গ্রামবাসীরা বলছেন, ‘আমাদের একটাই জাত, সেটা মানবতা।’ তাঁদের কেউ উচ্চবর্ণের, কেউ দলিত আবার কেউ মুসলিম। হাতে হাত মিলিয়ে বিভাজনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছেন তাঁরা।

৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দাদের গ্রামসভায় ডেকেছিলেন শরদরাও। সবাই হাজির হন। বৈঠক হবে। গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এমনই ভেবেছিলেন তাঁরা। আচমকাই সরপঞ্চ ঘোষণা করেন, ‘আগে রক্তদান শিবির। তার পরে অন্য কথা।’ হইহই পড়ে যায়। রক্তদান করেন প্রায় ২০০ গ্রামবাসী। সেই রক্ত দেখিয়ে শরদরাও বলেন, ‘দেখুন, আমাদের সবার রক্ত লাল। কারও রক্ত সবুজ বা নীল নয়। শুধু লাল। আর একবার তা মিশে গেলে, কেউ আলাদা করতে পারবে না।’

পরপর তিন দফায় গ্রামের সরপঞ্চ নির্বাচিত হয়েছেন শরদরাও। সৌন্দলাকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ। অভিজ্ঞতাও কম নয়। সেখান থেকেই রক্তদান শিবিরের পরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মারাঠি ভাষায় ‘জাতমুক্ত গ্রামের’ প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আজ থেকে কেউ জাত মানবে না। জাতের কথা ভেবে কোনও আচরণ করবে না। মানবতাই হবে একমাত্র ধর্ম।’ এই নীতির ব্যতিক্রম ঘটলে সাংবিধানিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের দায়ের শাস্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়। হইহই করে সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন গ্রামবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *