‘আমি একনায়ক, কিন্তু দরকার আছে’: দাভোসে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব রাজনীতির আঙিনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই চমক আর বিতর্কের সহাবস্থান। বুধবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এ ফের একবার নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঠাট্টার ছলে হলেও নিজেকে ‘একনায়ক’ বা ‘ডিক্টেটর’ হিসেবে ঘোষণা করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
‘স্বৈরাচারী’ তকমা ও ট্রাম্পের যুক্তি
দাভোসের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প অকপটে স্বীকার করেন যে, অনেকেই তাঁকে পছন্দ করেন না এবং তাঁকে ‘মন্দ মানুষ’ হিসেবে গণ্য করেন। নিন্দুকদের সেই সমালোচনাকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন একনায়ক। তবে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতির প্রয়োজনে একজন একনায়কের খুব দরকার হয়।” যদিও তিনি দাবি করেন, তিনি আদতে এক শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং তাঁর শাসনামলে অনেক যুদ্ধ থামিয়েছেন, তবুও নিজেকে হিটলারের মতো কুখ্যাত একনায়কদের সারিতে দাঁড় করিয়ে এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।
এর আগেও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ‘একদিনের জন্য একনায়ক’ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং তেল উত্তোলনের স্বার্থে তিনি কঠোর হতে চান। ক্ষমতায় ফেরার পর ভেনেজুয়েলার তেল ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই পুরোনো মন্তব্যেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় ঘোষণা ও ভূ-রাজনীতি
একনায়ক তত্ত্বের পাশাপাশি ট্রাম্পের ভাষণে উঠে এসেছে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহলী ট্রাম্প। এদিন তিনি জানান, নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সাফ কথা, “এটি একটি দুর্দান্ত ডিল হতে চলেছে। আমরা ডেনমার্ক ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে রাশিয়া বা চিন কোনোভাবেই অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে।” তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনো বলপ্রয়োগ করা হবে না। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ করতে ব্রিটেন ও জার্মানিসহ আটটি দেশের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের প্রভাব
দাভোসে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি এবং একের পর এক নীতিগত ঘোষণা প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে অটল। একদিকে নিজেকে কঠোর প্রশাসক হিসেবে জাহির করা, অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত অঞ্চল নিয়ে দাবার চাল চালার মাধ্যমে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন, আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর দাপট কমার সম্ভাবনা নেই।

