আয়কর ছাড়ের কিস্তিমাত! বাজেটে কি মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফোটাবে কেন্দ্র? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের শুরু থেকেই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির দাপটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে দৈনন্দিন বাজারের আগুন দাম, অন্যদিকে শিক্ষা ও চিকিৎসার পেছনে ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হতে চলা কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন দেশের কোটি কোটি করদাতা। প্রশ্ন একটাই, নির্মলা সীতারামন কি এবার করের বোঝা লাঘব করবেন?
৮০সি ধারায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত
দীর্ঘ এক দশক ধরে আয়কর আইনের ৮০সি (Section 80C) ধারায় কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ১.৫ লক্ষ টাকায় স্থবির হয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের পর এই সীমাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে শিল্প সংগঠন ‘অ্যামচ্যাম’ (AMCHAM)-এর সাম্প্রতিক সুপারিশে নতুন আশার আলো দেখছেন বেতনভুক কর্মীরা। সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যাতে এই সীমা ১.৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৩.৫ লক্ষ টাকা করা হয়। গত দশ বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার মাথায় রাখলে এই দাবি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিমা প্রিমিয়ামে বিশেষ ছাড়ের দাবি
করোনার পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বাড়লেও, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিমার প্রিমিয়াম। বর্তমানে এই প্রিমিয়ামের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই এবারের বাজেটে বিমার প্রিমিয়ামের জন্য আলাদা করে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত কর ছাড়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয়ের সুযোগও বাড়বে।
পুরনো বনাম নতুন কর ব্যবস্থা
যদিও কেন্দ্র বারবার ‘নতুন কর ব্যবস্থা’ (New Tax Regime)-কে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে, তবুও এ দেশের একটা বড় অংশ এখনও ‘পুরনো কর ব্যবস্থা’ (Old Tax Regime)-র সমর্থক। কারণ, পিপিএফ, এলআইসি বা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো বিনিয়োগের মাধ্যমে কর সাশ্রয় কেবল পুরনো ব্যবস্থাতেই সম্ভব। যদি ৮০সি ধারার সীমা বাড়ানো হয়, তবে সঞ্চয়প্রবণ মধ্যবিত্তের কাছে তা হবে এক বিশাল বড় পাওনা।
১ ফেব্রুয়ারির ‘মাস্টার স্ট্রোক’
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করতে চলেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ৮০সি ধারার সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা আসে, তবে তা হবে সরকারের একটি বড় ‘মাস্টার স্ট্রোক’। এর ফলে মানুষের হাতে ব্যয়যোগ্য অর্থের পরিমাণ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে। মধ্যবিত্তের অপেক্ষার অবসান হবে কি না, তার উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই।

