আরজি কর হাসপাতালে বিরল অস্ত্রোপচার, মৃত ব্যক্তির হাড়ে নতুন জীবন পেলেন যুবক
পূর্ব ভারতে এই প্রথম মৃত দাতার হাড় সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হলো জীবিত মানুষের শরীরে। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উত্তর ২৪ পরগনার ৩১ বছর বয়সী শ্রমিক রিজাউদ্দিন মণ্ডলের ডান পায়ে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালে এক লরি দুর্ঘটনায় তার হাঁটুর উপরের হাড় বা ডিস্টাল ফিমার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। একাধিক অস্ত্রোপচারের পরেও স্বাভাবিক হাঁটাচলার ক্ষমতা ফিরে না পাওয়ায় শেষপর্যন্ত এই আধুনিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
চেন্নাই থেকে সংগৃহীত মৃত দাতার হাড় বা ‘ক্যাডাভেরিক অ্যালোগ্রাফট’ ব্যবহারের মাধ্যমে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি চালানো হয়। হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুনীত হাজরা, ডা. সুমন্ত পাল এবং ডা. সঞ্জয় কুমারের নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী থ্রি-ডি প্রিন্ট মডেল তৈরি করে সংগৃহীত হাড়ের মাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই চিকিৎসার জন্য ২.৪ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিস্থাপিত এই হাড় কয়েক মাসের মধ্যে রোগীর শরীরের নিজস্ব অংশ হয়ে উঠবে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। অতীতে এই ধরনের গুরুতর হাড়ের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। আরজি কর হাসপাতালের এই সাফল্য পূর্ব ভারতের ট্রমা কেয়ার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। বর্তমানে রিজাউদ্দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

