আরব বিশ্বে চরম একঘরে ইরান! যুদ্ধের আবহে তেহরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আমিরশাহী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন পটপরিবর্তন। একের পর এক মুসলিম দেশের ওপর ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিবাদে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তেহরানের দূতাবাস, ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে সমস্ত কূটনীতিকদের।
বুর্জ খলিফায় আতঙ্ক ও ড্রোন হামলা
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইরানের এই আগ্রাসনে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে দুবাই ও আবুধাবির স্বাভাবিক জনজীবন। বিশ্বের উচ্চতম ইমারত বুর্জ খলিফার কাছে একাধিক বিস্ফোরণের জেরে সেটি খালি করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পাম জুমেইরাহ থেকে শুরু করে রুওয়াইস শিল্পাঞ্চল— সর্বত্রই এখন যুদ্ধের ক্ষত। আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবির নৌসেনা ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ।
কেন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের Supreme \titleonly লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে প্রতিবেশী সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও ওমানের ওপর। আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ কড়া ভাষায় জানিয়েছিলেন, “এই যুদ্ধ আপনার নিজস্ব, প্রতিবেশীদের ওপর এই আগ্রাসন অনৈতিক।” কিন্তু সেই বার্তায় কান দেয়নি ইরান।
একঘরে তেহরান
ইতিহাসে এই প্রথমবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তাদের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের এই বেপরোয়া আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। একদিকে ইজরায়েল-আমেরিকার চাপ, অন্যদিকে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে ইরান এখন কার্যত বন্ধুহীন।

