আর জি কর লিফট বিপর্যয়ে সিআইএসএফকে তলব লালবাজারের, জেরার মুখে ৮ পুলিশকর্মী

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট বিপর্যয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী বা সিআইএসএফ-কে তলব করল লালবাজার। লিফট ও দেয়ালের মাঝে পিষ্ট হয়ে নাগেরবাজারের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর সময় সেখানে উপস্থিত জওয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখাই এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য।
মৃত অরূপের বাবার দায়ের করা অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, লিফটের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে তাঁরা কর্তব্যরত সিআইএসএফ জওয়ানদের বেসমেন্টের তালা ভেঙে উদ্ধারকাজে সাহায্য করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। রাইফেল ও বুট থাকায় জওয়ানদের পক্ষে তালা ভাঙা সহজ ছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বারবার অনুনয় সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনো সদস্যই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু হলে অরূপের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁর বাবা আক্ষেপ করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লালবাজারের গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই আর জি কর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ৮ জন পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঘটনার সময় তাঁদের অবস্থান ও ভূমিকা কী ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার চেষ্টা চলছে। সিআইএসএফ-এর ডিউটি সাধারণত হাসপাতালের বাইরের অংশে থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁরা ভেতরে ঢুকে সাহায্য করতে পারেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যেই সংশ্লিষ্ট জওয়ান ও পদস্থ আধিকারিকদের বয়ান রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, লিফট বিপর্যয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন লিফটম্যানকে শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অসহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার। নির্মীয়মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণাধীন লিফটের নিরাপত্তায় কাদের ত্রুটি ছিল, তা স্পষ্ট করতে বদ্ধপরিকর তদন্তকারী দল।
