লেটেস্ট নিউজ

“আর পাঁচ মিনিট, তারপর আমায় আর দেখতে পাবে না”, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে স্বজনহারাদের হাহাকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: “আগুন লেগেছে, আমি আর বেরোতে পারছি না। মরে যাব বোধহয়। স্ত্রী আর বাচ্চাদের দেখে রেখো।” ২৬ জানুয়ারি ভোরে আনন্দপুরের গুদামে আগুন লাগার পর দাউদাউ শিখার মাঝখান থেকে দাদাকে ফোন করে এই শেষ আকুতি জানিয়েছিলেন নিরাপত্তা রক্ষী সুনীল হাঁসদা। অন্যদিকে, পঙ্কজ হালদার তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলেন, “আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। এরপর তুমি আমায় আর কোনোদিন দেখতে পাবে না।”

সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। আনন্দপুরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার দিন কেটে গেলেও এখনও স্পষ্ট নয় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহ শনাক্তকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে গাফিলতির অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দমকল বাহিনীর মতে, যে ডেকোরেটর্সের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কোনো ‘ফায়ার সেফটি ক্লিয়ারেন্স’ বা অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। মৃতদের পরিজনদের অভিযোগ, পাশের গুদামের ডেকোরেশনের সরঞ্জাম যত্রতত্র ফেলে রাখায় বেরোনোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে আগুনের গ্রাস থেকে পালানোর কোনো পথ পাননি কর্মীরা।

স্তব্ধ শৈশব, অপেক্ষায় পরিবার

পঙ্কজ হালদারের তিন বছরের মেয়েটি আজও জানে না তার বাবা আর ফিরবে না। সে এখনও বাবার জন্য অপেক্ষা করে আছে। পঙ্কজের স্ত্রী মৌসুমী জানান, শেষ ফোনে পঙ্কজ জানিয়েছিলেন যে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁর সহকর্মীরা আগেই মারা গিয়েছেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ

বারুইপুরের পুলিশ সুপার সুবেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে গুদাম মালিককে গ্রেপ্তার করে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়াও! মোমো’ সংস্থাটি তাদের দুই কর্মী ও এক নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে সহায়তার ঘোষণার চেয়েও পরিবারের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—কবে শেষবারের মতো প্রিয়জনের নিথর দেহটুকু ফিরে পাবেন তাঁরা? আনন্দপুরের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সেই উত্তরই খুঁজছেন স্বজনহারারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *