লেটেস্ট নিউজ

ইউক্রেনের হাতে কি পরমাণু বোমা দিচ্ছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স? রাশিয়ার বিস্ফোরক দাবিতে কাঁপছে বিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইউক্রেন ও রাশিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মঙ্গলবার পা রাখল পঞ্চম বছরে। আর এই বিশেষ দিনেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (SVR) একটি গোপন রিপোর্ট প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, ব্রিটেন ও ফ্রান্স অত্যন্ত গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। মস্কোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুদ্ধ থামানোর জন্য তাদের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইউক্রেনকে সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্রহীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে হবে। কিন্তু পশ্চিমী দেশগুলোর এই কথিত পদক্ষেপ আগুনের ঘৃতাহুতি দেওয়ার মতো কাজ করছে বলে মনে করছে রাশিয়া।

চার বছর পেরিয়ে রণক্ষেত্র: পুতিনের লক্ষ্য ও বাস্তব চিত্র

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের ওপর পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করেছিল রাশিয়া। গত চার বছরে লক্ষ লক্ষ সেনার মৃত্যু হলেও যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় ৩,২৫,০০০ সেনা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১২ লক্ষের বেশি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রায় ১,৪০,০০০ সেনা প্রাণ হারিয়েছে এবং ৬ লক্ষ সেনা আহত হয়েছে।

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে রাশিয়ার এই মন্থরগতির অগ্রগমনকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “রাশিয়ার আগ্রাসনের গতি শামুকের চেয়েও ধীর।” তথ্য বলছে, গত চার বছরে ডোনেটস্ক অঞ্চলে রাশিয়া মাত্র ৫০ কিলোমিটার এগোতে পেরেছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে, যার মধ্যে দোনবাস অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও জেলেনস্কির কঠিন চ্যালেঞ্জ

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না করলে রাশিয়ার ওপর এমন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

তবে শান্তির পথ এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। পুতিন দাবি করছেন, ইউক্রেনকে তাদের দখল করা চারটি অঞ্চলের অধিকার ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাফ জানিয়েছেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও তিনি শত্রুর হাতে ছাড়বেন না। দোনবাস অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘ট্রিলিয়ন ডলার প্রশ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ এই যুদ্ধ থামাতে কার্যত ব্যর্থ বলে সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তায় ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে গেলেও, পরমাণু অস্ত্রের এই নতুন বিতর্ক পুরো পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিনারে নিয়ে দাঁড় করাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *