ইউজিসি বিতর্ক: কারো ওপরই অত্যাচার হবে না, আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্য বজায় রাখা এবং বৈষম্য রোধে আনা নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়ের মুখে এই প্রথম মুখ খুলল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো পরীক্ষার্থী বা শিক্ষককে হেনস্থা বা বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া হবে না।
বিনম্রতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, কারো সঙ্গে কোনো বৈষম্য বা অত্যাচার হবে না। ইউজিসি, রাজ্য সরকার বা কেন্দ্র—কেউ আইনের অপব্যবহার করতে পারবে না। প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংবিধানের গণ্ডির মধ্যেই নেওয়া হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য:
“আমি অত্যন্ত বিনম্রতার সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই যে, কাউকে হেনস্থা হতে দেওয়া হবে না এবং কোনো বৈষম্য হবে না। বৈষম্যের নামে আইনের অপব্যবহার করার অধিকার কারো থাকবে না। ইউজিসি, ভারত সরকার বা রাজ্য সরকার—সবারই এই দায়বদ্ধতা থাকবে। আমি কথা দিচ্ছি, যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সংবিধানের পরিধির মধ্যেই থাকবে। এছাড়া এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে। আমি আবারও আবেদন করছি এবং আশ্বস্ত করছি যে, কারো ওপর কোনো অত্যাচার করা হবে না।”
বিতর্কের মূল কারণ
ইউজিসি (UGC) কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ জারি করা ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্য বৃদ্ধি বিধি’-তে চারটি প্রধান বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে:
- কমিটি গঠন: প্রতিটি কলেজে ‘ইক্যুইটি কমিটি’ এবং ‘ইক্যুইটি স্কোয়াড’ গঠন করা বাধ্যতামূলক।
- ২৪x৭ হেল্পলাইন: অভিযোগ জানানোর জন্য চব্বিশ ঘণ্টা পরিষেবা সম্বলিত সিস্টেম।
- SC-ST সুরক্ষা: সংরক্ষিত শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
- কঠোর শাস্তি: নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল বা অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
কেন হচ্ছে প্রতিবাদ?
বিক্ষোভকারী এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, এই নিয়মগুলি কেবল SC, ST এবং OBC-দের সুরক্ষা দেয়, কিন্তু সাধারণ শ্রেণির (General Category) শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মতে, বৈষম্য যে কারো সাথেই হতে পারে, তাই আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।

