লেটেস্ট নিউজ

ইজরায়েলের মিসাইল হানায় কাঁপল তেহরান, তেল আভিভেও হাই অ্যালার্ট জারি করে যুদ্ধের দামামা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় ফের ঘনিয়ে এল যুদ্ধের কালো মেঘ। আমেরিকার সঙ্গে চরম কূটনৈতিক সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজরায়েল। শনিবার সকালে এই অতর্কিত হামলায় কেঁপে ওঠে ইরান। পালটা প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভেও জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

হামলার নেপথ্যে ইজরায়েলের যুক্তি

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার ভোরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে অন্তত তিন থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। এই সামরিক অভিযানকে ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ সাফ জানিয়েছেন, নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তেহরানের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের আলটিমেটাম ও রণক্ষেত্র পশ্চিম এশিয়া

এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। শর্ত ছিল, কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু প্রকল্প স্থায়ীভাবে বন্ধ করার এবং সমস্ত সঞ্চিত ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ব্যর্থ কূটনৈতিক আলোচনা ও যুদ্ধের আশঙ্কা

উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা অতিরিক্ত কোনো শর্ত মানবে না। এই টানাপড়েনের মাঝেই শুক্রবার মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ইজরায়েল ছাড়ার নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই নির্দেশিকা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানে আছড়ে পড়ে ইজরায়েলি মিসাইল।

গত বছরও পরমাণু ইস্যুতে টানা ১২ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এই দুই দেশ। সে সময় ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে খোদ আমেরিকাও হামলা চালিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের একবার সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে আসছে। তেল আভিভে সাইরেন বাজার অর্থ হলো, ইরান যেকোনো মুহূর্তে পালটা ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালাতে পারে। দুই দেশের এই সংঘাত এখন বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *