ইজরায়েলের সংসদে ২৬/১১-র স্মৃতিচারণ করলেন মোদী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল সফরে গিয়ে ইতিহাস গড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন তিনি ২৬/১১-র মুম্বই হামলার রক্তাক্ত স্মৃতি উসকে দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হলেন, তেমনই হামাস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক ভাষণের পর তাঁকে ইজরায়েলি সংসদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্পিকার অফ দ্য কেনেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
কনেসেটের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানান, সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের বর্বরোচিত হামলার নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতও বছরের পর বছর সন্ত্রাসের যন্ত্রণা সহ্য করেছে। আমরা আপনাদের দুঃখ বুঝি এবং আপনাদের পাশে আছি।” মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্বমঞ্চে আরও একবার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা মনে করিয়ে দেন।
গাজায় শান্তি ও ভারতের ভূমিকা
হামাস হামলার কড়া সমালোচনা করলেও গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, “শান্তির পথ সহজ নয়, তবে এই অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান আনতে ভারত দায়বদ্ধ।” উল্লেখ্য, গাজায় শান্তি ফেরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ বৈঠকে ভারত ইতিমধ্যেই পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দৃঢ় হচ্ছে ভারত-ইজরায়েল বন্ধুত্ব
২০১৭ সালে মোদীর সফরের মাধ্যমেই দুই দেশের সম্পর্ক ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর স্তরে পৌঁছেছিল। এদিনের বক্তৃতায় তিনি দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও মানসিক মিলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইজরায়েলের ‘টিক্কুন ওলাম’ (বিশ্বকে সুস্থ রাখা) এবং ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব এক পরিবার) একই মানবিক আদর্শ বহন করে। পাশাপাশি, ভারতে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপদ অবস্থানের ইতিহাসকে ভারতের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতীয় কর্মীদের প্রশংসা
সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলে কর্মরত ভারতীয় কেয়ারগিভার ও দক্ষ কর্মীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ৭ অক্টোবরের ঘটনার সময় তাঁদের দায়িত্ববোধ দুই দেশের মানবিক সম্পর্কের গভীরতাকেই প্রমাণ করে বলে তিনি জানান। বক্তৃতার শেষে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দুই দেশের কৌশলগত ও ঐতিহাসিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

