লেটেস্ট নিউজ

ইজরায়েলের সঙ্গে কি কোনো গোপন ‘ডিফেন্স প্ল্যান’ কষছেন মোদী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এবারের ইজরায়েল সফর মোটেও গতানুগতিক কোনো কূটনৈতিক সফর নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চার দিনের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত যেভাবে ইজরায়েলি অস্ত্রের শক্তিতে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করেছিল, তার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি ও তেল আবিবের এই সমীকরণ এখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।

মোদীর সফরে কেন কাঁপছে ইসলামাবাদ

গত বছরের সামরিক অভিযানের পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারকে পুনরায় শক্তিশালী করতে ইজরায়েল এখন সবথেকে নির্ভরযোগ্য নাম। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

  • নেসেটে ঐতিহাসিক ভাষণ: সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। কোনো বিদেশি নেতার জন্য এটি বিরল সম্মান, যার মাধ্যমে ভারত তার অগ্রাধিকার ও কৌশলগত চিন্তাধারা সরাসরি ইজরায়েলি নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরবে।
  • নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদীর একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ছাড়াও দুই দেশ ভবিষ্যতে যৌথভাবে অস্ত্র তৈরির রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করবে।
  • অপারেশন সিঁদুরের প্রভাব: গত বছর পাকিস্তান সীমান্তের উত্তেজনায় ইজরায়েলি ড্রোন এবং মিসাইল সিস্টেম ভারতের বড় ভরসা ছিল। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে ‘নেক্সট লেভেলে’ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
  • প্রযুক্তি হস্তান্তরের বড় চুক্তি: শুধুমাত্র অস্ত্র কেনা নয়, বরং ইজরায়েলি অত্যাধুনিক ডিফেন্স টেকনোলজি যাতে ভারতে তৈরি হয়, সেই লক্ষে কাজ করছেন প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ইজরায়েলি আধিকারিকরা।
  • ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের দৃঢ় অবস্থান: ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও ভারত তার আদর্শিক অবস্থান থেকে সরেনি। গাজা ও পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বার্তা দিয়েছে।
  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ: পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
  • প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ: রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে ইজরায়েলি প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদী।
  • যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন: প্রতিরক্ষা শিল্পের পাশাপাশি রিসার্চ এবং নতুন স্টার্টআপ প্রযুক্তিতে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দুই দেশ।
  • ২০১৭-এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের নবায়ন: ২০১৭ সালে মোদীর প্রথম তেল আবিব সফরের সময় যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে তা পূর্ণতা পেতে চলেছে।
  • নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা: যদিও বড় কোনো চুক্তির ঘোষণা এখনও বাকি, তবে ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারসাম্য ও বন্ধুত্বের কূটনীতি

ভারতের জন্য এই সফর একটি অগ্নিপরীক্ষার মতো। একদিকে পরম মিত্র ইজরায়েলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োজন, অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং নেতানিয়াহু মিলে যে ‘ডিফেন্স প্ল্যান’ তৈরি করছেন, তা আগামী দিনে ভারতের সামরিক শক্তিকে অপরাজেয় করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *