ইনস্টাগ্রামে বডি বানিয়েই পকেট ভরছে, লাখ টাকায় ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারদের রমরমা উপার্জনের সিক্রেট ফাঁস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
লখনউ: জিম বা মাঠের ঘাম ঝরানো শরীরচর্চা এখন কেবল স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি নয়, বরং উপার্জনের এক খনি হয়ে দাঁড়িয়েছে। লখনউ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ-তরুণীরা এখন ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবকে হাতিয়ার করে ফিটনেস দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটাচ্ছেন। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দৌলতে ঘরে বসেই লাখ লাখ টাকা আয় করছেন এই ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।
কীভাবে হচ্ছে এই বিপুল আয়?
ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার সাজিদ আহমেদ কুরেশি জানান, ডিজিটাল যুগে মানুষের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক সহজ। ব্র্যান্ড প্রমোশন, পেইড পার্টনারশিপ এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মাসে ১০-২০ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ক্রিয়েটররা। যাদের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে, তারাও অনায়াসেই বড় বড় ব্র্যান্ডের ডিল বাগিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া নিজস্ব অনলাইন কোর্স, ডায়েট প্ল্যান এবং ই-বুক বিক্রি করেও উপার্জনের নতুন পথ খুলেছে।
শর্টকাট নিয়ে সাবধানবাণী
জনপ্রিয় ফিটনেস ট্রেইনার জ্যোতি সিংয়ের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ‘এক সপ্তাহে মেদ কমানোর’ দাবি করেন, যা আদতে বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, “বডি বানানোর কোনো শর্টকাট নেই। এর জন্য লাগে সঠিক ডায়েট, অধ্যাবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম।” জ্যোতি নিজে ২১ কেজি ওজন কমিয়ে ২০১৭ সাল থেকে এই পেশায় এসেছেন এবং এখন সফলভাবে অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন।
ভিডিওর রমরমা এবং এআই-এর ব্যবহার
বর্তমানে শর্ট ভিডিও বা রিলসের জামানা। মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের ভিডিওতে যদি সঠিক এবং বিজ্ঞানসম্মত তথ্য থাকে, তবে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভিডিও এডিটিং এবং কন্টেন্ট তৈরিতে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) ব্যবহার করছেন আধুনিক ট্রেইনাররা। এআই-ভিত্তিক ফিটনেস অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল ট্রেনিং সেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বিপুল সিং সতর্ক করে জানিয়েছেন, রুট কজ বা সমস্যার মূল কারণ না বুঝে অন্ধভাবে অনলাইন ডায়েট বা এক্সারসাইজ ফলো করা উচিত নয়। স্ট্রেস ইটিং বা লাইফস্টাইলের সমস্যাগুলো আগে বোঝা জরুরি। তাই যারা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর জোর দিয়ে তথ্য শেয়ার করেন, তাদেরই অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে সাপ্লিমেন্ট, স্পোর্টস ওয়্যার এবং ফিটনেস গ্যাজেট নির্মাতা কো ম্পা নিগুলো এই ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমেই তাদের বাজার বিস্তার করছে। ফলে ফিটনেস এখন কেবল শখ নয়, তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্যারিয়ার গড়ার এক লাভজনক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

