ইরানের সেতুতে হামলার পাল্টা জবাব ‘হিট লিস্টে’ উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি ব্রিজ
ইরানের দীর্ঘতম সেতু ‘বি ১’-এ মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার কারাজে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটিতে বোমাবর্ষণের পর পালটা আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেগুলিকে তারা নিজেদের ‘হিট লিস্টে’ রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় সেতুটি ধ্বংসের ভিডিও পোস্ট করে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেই ইরান এই পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত সেনা পৌঁছেছে। পেন্টাগন ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি চালাচ্ছে বলে খবর। তবে এই হুমকির মুখে দমে না গিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ভূখণ্ডে কোনো শত্রুসৈন্য প্রবেশ করলে তাদের একজনও জীবিত ফিরবে না। এই পালটাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্ববাজারের ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত এই পথ বন্ধ হওয়ায় অনেক দেশেই তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটেন ৬০টি দেশকে নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করে, যেখানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে ভারত জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টি কড়াভাবে তুলে ধরেছে।
