ইরানে খামেনি যুগের অবসান কি আসন্ন? বাঙ্কারে সুপ্রিম লিডার, টালমাটাল তেহরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন লোকচক্ষুর আড়ালে, কার্যত ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’। গত সাত মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি এবং মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ইরানি ঘনিষ্ঠ নেতার পতনের পর ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়।
কেন আতঙ্কে খামেনি?
মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলেইমানি এবং ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু খামেনির নিরাপত্তাহীনতাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। সাম্প্রতিককালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেফতারের ঘটনাও তেহরানের জন্য বড় সতর্কবার্তা। খামেনি জানেন, আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন তিনি নিজেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য— “ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে”— সেই আশঙ্কাকেই উসকে দিয়েছে।
জনরোষ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
৩৬ বছরের শাসনামলে খামেনি পশ্চিমাদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক এবং রাশিয়ার ওপর অতি-নির্ভরশীলতার নীতি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে ইরান বর্তমানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে:
- মুদ্রাস্ফীতি: ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়েছে।
- অবকাঠামো বিপর্যয়: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস মজুদ থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট।
- বিক্ষোভ: ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকার পতন ও অর্থনৈতিক মুক্তির দাবিতে মোড় নিয়েছে।
বিকল্প নেতৃত্বের লড়াই
খামেনির অবর্তমানে ইরানের হাল কে ধরবে, তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ:
১. মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ: পার্লামেন্ট স্পিকার ও রিভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য। তিনি নিজেকে সাধারণ পোশাকে উপস্থাপন করলেও খামেনি তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না।
২. হাসান রুহানি: প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট মধ্যপন্থী ও সংস্কারবাদীদের পক্ষ থেকে বড় প্রার্থী হতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে এখন প্রকৃত সংস্কারবাদীদের জায়গা খুবই সীমিত।
৩. প্রিন্স রেজা পাহলভি: নির্বাসিত শাহজাদার জনপ্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়লেও, রাজনৈতিক সাংগঠনিক শক্তির অভাবে তার ক্ষমতা দখল অনিশ্চিত।
ভবিষ্যৎ কী?
ইয়েলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আরশ আজিজের মতে, খামেনির অপসারণ ইরানের অনেক কর্মকর্তার কাছেও এখন কাম্য হতে পারে, যারা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চান। অন্যদিকে, ইরানের ‘রিভল্যুশনারি গার্ড’ এখনও খামেনির প্রতি অনুগত। তবে মার্কিন সামরিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভ যদি একযোগে কাজ করে, তবে ৫ দশকের পুরনো এই ইসলামিক শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।
খামেনি হয়তো এখনও ‘লোহার হাত’ দিয়ে শাসন বজায় রাখার কথা ভাবছেন, কিন্তু খোদ তেহরানের রাজপথ বলছে অন্য কথা।

