ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মাঝে উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী! করাচিগামী জাহাজ রুখে দিয়ে বিশ্বকে কী বার্তা দিল তেহরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক । হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল ইরান। তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি আর সামরিক তৎপরতার জেরে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হলো করাচিগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জলপথের প্রোটোকল না মানলে কোনো জাহাজকেই এই কৌশলগত এলাকা পার হতে দেওয়া হবে না।
হরমুজে ইরানের দুর্ভেদ্য দেওয়াল
মঙ্গলবার রাতে ‘সেলেন’ নামক একটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে ফিরিয়ে দেয় আইআরজিসি নৌবাহিনী। কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি জানিয়েছেন, সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না থাকা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পতাকাবাহী ওই জাহাজটি করাচি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, যা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজাহ উপকূলে নোঙর করে আছে।
ট্রাম্পের দাবি বনাম তেহরানের ধমক
মধ্যপ্রাচ্যের এই জ্বলন্ত পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ ‘বাজার গরম করার ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাল ও দেশের অন্দরে ক্ষোভ
একদিকে যখন হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা, তখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবতীর্ণ হতে চাইছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে পাকিস্তানের এই উদ্যোগের পিছনে কাজ করছে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত। শিয়া প্রধান দেশ হিসেবে পাকিস্তানে ইরান-বিরোধী হামলার প্রতিবাদে উত্তাল সাধারণ মানুষ। করাচিতে মার্কিন কনসাল অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে সেনার গুলিতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। চরম আর্থিক সংকটেও সাধারণ মানুষ ইরানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ইরান যেমন সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, তেমনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব এই জটিল সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

