ইরান ইজরায়েল যুদ্ধে কি ভারত বড় ক্ষতির মুখে? জানুন কীভাবে লাভের গুড় খেতে পারে চীন ও পাকিস্তান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ফের যুদ্ধের দামামা। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত কেবল এই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর উত্তাপ এসে পৌঁছেছে নয়াদিল্লির দরজায়। দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান এবং কৌশলগত অংশীদার ইজরায়েল— দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে ভারতের জন্য তৈরি হয়েছে এক চরম কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই যুদ্ধের আঁচ ভারতের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে বড়সড় আঘাত হানতে পারে, যার সরাসরি সুবিধা নিতে মুখিয়ে আছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ।
চাবাহার বন্দর ও ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ
ভারতের কাছে ইরানের চাবাহার বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, এটি হলো পাকিস্তান ও চীনকে পাশ কাটিয়ে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান গেটওয়ে। পাকিস্তান যখন চীনের সহায়তায় গদর বন্দরকে শক্তিশালী করছে, তখন চাবাহার ছিল ভারতের পাল্টা চাল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যদি চাবাহার রুটটি ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে আফগানিস্তান থেকে শুরু করে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে ভারতের সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
খনিজ সংকট ও আমদানিতে বড় ধাক্কা
ভারত তার প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম এবং বিরল খনিজ উপাদানের (Rare Earth Minerals) একটি বড় অংশ ইরান হয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ভারতের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এছাড়া ইরানে বসবাসরত প্রায় ২৫ হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
চীন ও পাকিস্তানের ‘ডবল গেম’
ভারতের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিকেই নিজেদের সাফল্যের সিঁড়ি হিসেবে দেখছে চীন ও পাকিস্তান। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ব্যাকফুটে গেলেই মধ্য এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কোমর বেঁধে নামবে বেইজিং। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সুযোগে ইরানের সঙ্গে তিক্ততা কমিয়ে ধর্মীয় সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো আমেরিকার ভূমিকা। ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে ওয়াশিংটন যদি পুনরায় পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার শুরু করে, তবে ইসলামাবাদের পোয়াবারো। এর বিনিময়ে আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সাহায্য আদায় করে নিতে পারে পাকিস্তান, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
যুদ্ধ মানেই তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা। কিন্তু ভারতের জন্য এই যুদ্ধ কেবল মুদ্রাস্ফীতি নয়, বরং কয়েক দশকের কঠোর পরিশ্রমে গড়া কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মোদী সরকার এই ত্রিমুখী চাপ সামলে কীভাবে ভারত-ইরান-ইজরায়েল সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখে।

