লেটেস্ট নিউজ

ইরান যুদ্ধে কি ২০০৩ সালের ইরাক ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল বাগদাদের প্রাণকেন্দ্রে সাদ্দাম হোসেনের বিশাল মূর্তি উপড়ে ফেলেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই মুহূর্তটি ছিল ইরাকে এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা। ‘মিশন অ্যাকমপ্লিশড’ ঘোষণা করলেও বাস্তবে তা ছিল ধ্বংসের শুরু। আট বছরে প্রাণ হারান ৪ লাখ ৬১ হাজার মানুষ, আর আমেরিকার খরচ হয় তিন ট্রিলিয়ন ডলার। আজ ঠিক একইভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কি ইতিহাসের সেই একই ভুল পথে হাঁটছে? ইরাক আর ইরানের পরিস্থিতির মধ্যে মিল থাকলেও আজকের ভূ-রাজনীতি অনেক বদলে গেছে।

ইরাক বনাম ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

ইরাক আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’ এবং কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিনাশ। যদিও পরে দেখা যায় সেই অস্ত্রের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বর্তমান ইরান ইস্যুতেও একই রকম লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে—ইরানি সামরিক শক্তিকে খর্ব করা এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০-২৫ বছর আগে আমেরিকা যেভাবে মিত্রদের (যেমন ব্রিটেন) সাথে নিয়ে চলত, এখন সেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবার মার্কিন কর্মকাণ্ড থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন।

আসাম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল—যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু দেশ পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন। ২০০৩ সালে সাদ্দামকে সরানোর পর ইরাকে যে গৃহযুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিল, তার সুফলভোগী হয়েছিল খোদ ইরান। বর্তমানে ইরানকে লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হচ্ছে, তার পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন কোনো বিপর্যয়, উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *