লেটেস্ট নিউজ

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ৫টি মারাত্মক ভুল যা আমেরিকার হিসাব উল্টে দিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান যে এতটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা হয়তো খোদ ওয়াশিংটনও কল্পনা করতে পারেনি। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ছিল এটি হবে দ্রুত এবং একতরফা একটি জয়। তাদের মাথায় সম্ভবত ইরাক যুদ্ধের সেই পুরনো মডেল ঘুরছিল, যেখানে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করলেই কেল্লাফতে হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১২ দিনের মাথায় তেহরান সেই হিসাব পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলো সরাসরি আমেরিকার ভুল রণকৌশল এবং ইজরায়েলের অতিসক্রিয়তাকে দায়ী করছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মতে, ট্রাম্পের অপরিণামদর্শিতার কারণে মার্কিন বাহিনী এখন রীতিমতো নাজেহাল। এই পরিস্থিতির পেছনে পাঁচটি প্রধান কৌশলগত ভুলকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথমত, ট্রাম্পের ধারণা ছিল আয়াতোল্লা আলি খামেইনিকে খতম করতে পারলেই ইরানের মনোবল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। খামেইনি লুকিয়ে না থেকে বরং দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, যা ইরানের জনমনে দেশপ্রেমের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতাকে চরমভাবে খাটো করে দেখেছিল আমেরিকা। পেন্টাগনের যুদ্ধ বিশারদরা ভেবেছিলেন বড় হামলার মুখে ইরান পিছিয়ে যাবে, কিন্তু তেহরান উল্টে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে।

তৃতীয় বড় ভুলটি ছিল বিশ্ব তেলের বাজারের ওপর যুদ্ধের প্রভাব বুঝতে না পারা। ট্রাম্প প্রশাসন ভেবেছিল তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু বাস্তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। চতুর্থত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা ইরান বন্ধ করার ইঙ্গিত দেওয়ামাত্রই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে বড় ভুল হলো যুদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ। যে যুদ্ধকে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখন এক দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উপদেষ্টাদের একাংশ এখন এই চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ প্রমাণ করে দিল যে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *