লেটেস্ট নিউজ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কি সত্যিই অশান্তির ছায়া? কেশপুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় ঠিক কী ঘটল জানাল সংসদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিচ্ছিন্ন কিছু অশান্তির খবর কানে এলেও রাজ্যজুড়ে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আদতে ‘শান্তিপূর্ণ’ভাবেই এগোচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর প্রথম কয়েক দিনের গতিপ্রকৃতি এবং পরিস্থিতি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এমনটাই দাবি করল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ছোটখাটো কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও পর্ষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও সংসদ যৌথভাবে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।

দুই জেলায় ছড়াল উত্তেজনা

সংসদ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরীক্ষার শুরুর লগ্নেই দুটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে যা কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি পরীক্ষার শেষে পূর্ব মেদিনীপুরের কেশপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। জানা গিয়েছে, ইনভিজিলেশন ডিউটি অর্থাৎ পরীক্ষার হলের নজরদারির কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে এক শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বচসা শুরু হয়। সেই কথা কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যেই হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। আহত ওই শিক্ষককে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠি উঁচিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুই ঘটনার কথা মেনে নিলেও সংসদের দাবি, এগুলি অত্যন্ত ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা। মূল পরীক্ষা প্রক্রিয়ার ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলেই মনে করছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও কড়া নজরদারি

এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করা পর্ষদের কাছে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সংসদের সভাপতি জানিয়েছেন, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতেও নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ। এখনও পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁস বা বড় ধরনের কোনো কারচুপির অভিযোগ ওঠেনি, যা সংসদের কাছে বড় সাফল্য।

পর্ষদের কড়া বার্তা

সংসদের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যেখানেই কোনো ধরনের গোলমাল বা বিশৃঙ্খলা নজরে এসেছে, সেখানেই প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নিয়েছে। পর্ষদের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, “উচ্চমাধ্যমিকের মতো এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে না দেখে সামগ্রিক সাফল্যের দিকে নজর দেওয়া উচিত।” ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে সংসদ যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *