উত্তরপ্রদেশে বিয়ের আসরে পাত্রকে ‘বৃহন্নলা’ হিসেবে শনাক্ত, কনে ছাড়াই ফিরল পাত্রপক্ষ
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির গণাই গ্রামে শুক্রবার রাতে এক বিচিত্র ঘটনার জেরে ভেঙে গেল বিয়ের আসর। স্থানীয় যুবক রিশুর সঙ্গে এক তরুণীর বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও সাত পাক সম্পন্ন হওয়ার পর, ভোররাতে কনেবিদায়ের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল বৃহন্নলা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন যে, ২২ বছর বয়সি পাত্র রিশু আদতে তাঁদেরই সম্প্রদায়ের সদস্য। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ বিষাদে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিচয় গোপন রাখতে পাত্রপক্ষ বৃহন্নলাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। কনের আত্মীয়রা বিষয়টি যাচাই করতে চাইলে পাত্র আসাম্মতি জানান, যার ফলে বিয়েবাড়িতে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সামাজিক সংবেদনশীলতার খাতিরে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কনে ওই যুবকের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করায় বিয়েটি বাতিল হয়ে যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, পাত্রপক্ষ বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করবে। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পর রিশু ও তাঁর পরিবারকে শেষ পর্যন্ত কনে ছাড়াই শূন্য হাতে গ্রামে ফিরতে হয়েছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।

