উন্নয়নের জোয়ারে ইস্যুহীন বিজেপি! হুগলিতে পদ্ম শিবিরের প্রচারের পালে হাওয়া কাড়ছে তৃণমূল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের জোয়ারে কার্যত ইস্যুহীন হয়ে পড়েছে বিজেপি। ভোট যত এগিয়ে আসছে, হুগলি সাংগঠনিক জেলায় প্রচারের হাতিয়ার খুঁজে পেতে ততটাই কালঘাম ছুটছে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। চুঁচুড়া থেকে বলাগড় কিংবা সিঙ্গুর থেকে তারকেশ্বর— সর্বত্রই তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন বিজেপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ইস্যু বাদ দিয়ে নিয়োগ বিতর্ক বা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে প্রচারের পরিকল্পনা করছে পদ্মপার্টি। যদিও দলের একাংশের মতে, বুথ স্তরের লড়াইয়ে স্থানীয় ইস্যু ছাড়া কেবল রাজ্য রাজনীতির অভিযোগে ভোটারদের মন জয় করা কঠিন। বিশেষ করে যেখানে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি যথেষ্ট নড়বড়ে।
দলের অন্দরের আলোচনায় উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিজেপির এক প্রভাবশালী জেলা নেতার মতে, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাড়ি তৈরির প্রকল্প— সবই সাফল্যের সঙ্গে রূপায়ন করেছে তৃণমূল। এই অবস্থায় উন্নয়নের কাজকে অস্বীকার করলে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ বা অভয়া কাণ্ডের মতো ইস্যুগুলোর প্রভাবও অনেকটা থিতিয়ে গিয়েছে। ফলে প্রচারের অভিমুখ কোন দিকে হবে, তা নিয়ে দিশেহারা নেতৃত্ব। গ্রামীণ হুগলির এক নেতার কথায়, “সংগঠন যেখানে দুর্বল, সেখানে প্রচারের ঝোড়ো হাওয়াই ভরসা। কিন্তু সেই প্রচারে ঝাঁজ না থাকলে জনমতের পরিবর্তন ঘটানো আসাম্ভব।”
পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বিজেপির নেতা সুরেশ সাউ। তাঁর দাবি, “রাস্তা হওয়াটাই শেষ কথা নয়। ঘরের ছেলের চাকরি চুরি করেছে তৃণমূল, কেড়েছে সরকারি কর্মীদের পাওনা। মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন, এবার হুগলির সর্বত্র পদ্ম ফুটবে।” এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। তাঁর মতে, “যাঁদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ নেই, তাঁদের মুখে এমন কথা শুনলে গাধাও হাসবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মানুষ নিজের উন্নয়ন নিজে করার সুযোগ পেয়েছেন। উল্টে কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাসের টাকা কেড়ে নিয়েছে। এই নিরিখেই ভোট হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় বিধানসভা এলাকাগুলোতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে গিয়েও চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। অভিযোগের তালিকায় জোরালো কোনো ইস্যু না থাকায় দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেই হাসাহাসি শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়নের এই পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে হুগলিতে কোণঠাসা পদ্ম শিবির।

