উপহারের খামে কেন ১০০-র বদলে ১০১ টাকা? জানুন এর নেপথ্যের শাস্ত্রীয় ও সাংস্কৃতিক কারণ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিয়েবাড়ি বা শুভ অনুষ্ঠানে উপহারের খামে ১০০ বা ৫০০ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত এক টাকা যোগ করে ১০১ বা ৫০১ টাকা দেওয়ার রীতি দীর্ঘদিনের। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘শূন্য’ কোনো কিছুর সমাপ্তি বা ইতি টানার প্রতীক। উপহারের অঙ্কের শেষে শূন্য থাকা মানে সম্পর্কের বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া। তাই সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখতে এবং বিচ্ছেদ রোধে উপহারের অর্থের সঙ্গে এই অতিরিক্ত এক টাকা যোগ করা হয়, যা সংখ্যাটিকে অবিভাজ্য করে তোলে।
আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধাতব মুদ্রাকে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। কাগজের নোটের সঙ্গে একটি মুদ্রা দেওয়া মানে প্রাপকের হাতে সৌভাগ্যের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া। শাস্ত্রমতে, এই এক টাকা হলো ‘বিনিয়োগের বীজ’, যা থেকে নতুন করে গণনা শুরু হয়। উপহারের প্রাপক যেন জীবনে কখনও শূন্য হাতে না ফেরেন এবং তাঁর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি যেন অব্যাহত থাকে, সেই শুভকামনাতেই এই প্রথা পালন করা হয়।
সামাজিক ও ধর্মীয় আচার, যেমন পুরোহিতের দক্ষিণা বা প্রিয়জনকে দেওয়া উপহারে এই এক টাকার মুদ্রাটি আসলে প্রগতি এবং অটুট সম্পর্কের অঙ্গীকার। এটি নির্দেশ করে যে সম্পর্কটি শেষ হয়ে যায়নি, বরং নতুন করে এগিয়ে চলার পথে পা বাড়াল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য মূলত প্রিয়জনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রার্থনার একটি অনন্য মাধ্যম। তাই উপহারের খামে ওই একটি মুদ্রা স্রেফ অর্থ নয়, বরং আশীর্বাদ ও মঙ্গলের প্রতীক।

