এআই কি তবে ট্রাফিকের কাছে হার মানল? দিল্লিতে এসে ঋষি সুনকের মন্তব্যে শোরগোল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 20, 202610:04 am
নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বর্তমান বিশ্বের খোলনলচে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখলেও, ভারতের রাজধানীর যানজটের সামনে তা কার্যত অসহায়। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ যোগ দিতে এসে এভাবেই রসিকতা মেশানো খোঁচা দিলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অধিবেশনে পৌঁছে তিনি সরাসরি ট্রাফিক জ্যামকেই কাঠগড়ায় তোলেন।
এআই বনাম দিল্লির ট্রাফিক
সামিটে যোগ দিতে দেরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে সুনক বলেন, “আমরা যে আজ কিছুটা দেরি করে ফেলেছি, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এটা সম্পূর্ণ আমারই ভুল। তবে একটা কথা বলতে পারি, এআই হয়তো দুনিয়ার অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, কিন্তু দিল্লির ট্রাফিক জ্যাম কমানো বোধহয় এর পক্ষেও আসাম্ভব।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাগৃহে হাসির রোল ওঠে। দিল্লির যানজট নিয়ে তাঁর এই সরস মন্তব্য এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
ভারতের প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা
মশকরার পাশাপাশি এআই রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন ব্রিটিশ রাজনীতিক। ঋষি সুনকের মতে, এআই ট্রান্সফরমেশন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের চেয়ে আদর্শ জায়গা আর দ্বিতীয়টি নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা কেবল উন্নত দেশ নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নতির জন্যও দিশারি হয়ে উঠবে।
এআই নিয়ে ভারত বনাম পশ্চিমী দেশ
অধিবেশনে সুনক উল্লেখ করেন যে, এআই নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
- ভারত: এআই প্রযুক্তির ওপর ভারতের গভীর আস্থা এবং অদম্য উৎসাহ রয়েছে। এখানকার সাধারণ মানুষ ও সরকার একে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
- পশ্চিমী দেশ: ইউরোপ বা আমেরিকার দেশগুলোতে এআই নিয়ে আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি। সেখানে এই প্রযুক্তিকে ঘিরে এক ধরনের উদ্বেগের পরিবেশ রয়েছে।
সুনক বলেন, “এই আস্থার অভাব মেটানোটা কোনো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি একটি বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ। এখন প্রশ্ন এটা নয় যে এআই কী করতে পারে, বরং প্রশ্ন হলো দেশগুলো এই প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করবে।”
ভারতের সম্ভাবনা ও নেতৃত্ব
প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিপুল প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্ম, মজবুত ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিবান্ধব জনমানসের কারণে ভারত আজ এআই ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে এআই এখন আর কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং এটি সরকারের কেন্দ্রীয় দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত যেভাবে এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে, তা আগামী দিনে সমাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বড় মাইলফলক তৈরি করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

