এআই কি সত্যিই কেড়ে নেবে আপনার রুজি-রুটি? রঘুরাম রাজন শোনালেন আশঙ্কার মাঝে আশার কথা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) কি ভারতের আইটি সেক্টরে ধস নামাতে চলেছে? এই প্রশ্ন এখন লাখো চাকুরিজীবীর মনে। সাধারণ মানুষের এই আতঙ্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তিনি স্পষ্ট জানালেন, এআই প্রযুক্তি ভারতের সার্ভিস সেক্টরে বড়সড় ওলটপালট ঘটালেও, একে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারবে না।
রুটিন কাজে বদল ও নতুন দক্ষতার চাহিদা
রঘুরাম রাজনের মতে, কোডিং, টেস্টিং, ব্যাক-অফিস এবং কাস্টমার সাপোর্টের মতো গতানুগতিক বা রুটিন কাজগুলো আগামীতে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু মানুষ কাজ হারাতে পারেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি হবে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান। যারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াবেন বা ‘আপগ্রেড’ করবেন, তাদের জন্য সাফল্যের নতুন দরজা খুলে যাবে।
ভারতের সামনে বড় সুযোগ
বিশ্বের অনেক বড় বড় সংস্থা এখনও পুরোপুরি এআই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এই শূন্যস্থানেই ভারতীয় আইটি কো ম্পা নিগুলোর সামনে বড় সুযোগ দেখছেন রাজন। তিনি বলেন, ভারত যদি শুধু ‘সস্তা শ্রমের বাজার’ হয়ে পড়ে থাকে, তবে বিপদ নিশ্চিত। এখন সময় এসেছে উচ্চমানের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তিতে নজর দেওয়ার। তবেই আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকা সম্ভব হবে।
আতঙ্ক নয় বরং প্রস্তুতিই আসল পথ
ভবিষ্যতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রাক্তন এই গভর্নর। তরুণ প্রজন্মকে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এখন সময়ের দাবি। রাজনের কথায়, প্রযুক্তি সবসময় দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের মধ্যে আয়ের বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়, তাই নীতিনির্ধারকদের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পরিশেষে রঘুরাম রাজনের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—এআই বিপর্যয় ডেকে আনবে না, বরং কাজের ধরনে বিবর্তন ঘটাবে। ভারতের জন্য এটি আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়, বরং নিজেকে আরও উন্নত ও আধুনিক করার মোক্ষম সুযোগ।

