লেটেস্ট নিউজ

এআই চাকরির দক্ষতা: প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, ২৩৪% প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে আসল যে এআই দক্ষতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

এআই জব স্কিলস: গত দুই বছর ধরে কর্মসংস্থানে একটিই প্রশ্ন সবাইকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই রমরমা যুগে কীভাবে নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিজের কর্মক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক থাকতে ঠিক কোন দক্ষতাগুলো প্রয়োজন, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। ২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। এই প্রশ্নগুলোরই সাম্প্রতিক উত্তর দিয়েছে ২০২৬ সালের ‘কোরসেরা জব স্কিলস রিপোর্ট’।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে দ্রুততম গতিতে বাড়তে থাকা এআই দক্ষতা কিন্তু ‘প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং’ নয়। এটি কোডিং কিংবা মডেল ট্রেনিংও নয়। জেনারেটিভ এআই সংক্রান্ত সমস্ত দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যেটির চাহিদা তুঙ্গে, তা হলো ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা বিষয়বস্তু সৃষ্টি। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে যে, এই সংক্রান্ত শেখার আগ্রহ মাত্র এক বছরেই ২৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেনারেটিভ এআই নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা থাকলেও মানুষ আসলে যে দক্ষতাটি শিখছে, তা কোনো কারিগরি জাদু নয়। বরং চিন্তাভাবনাকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো এবং কৌশলগত ভাবনাকে অর্থপূর্ণ আউটপুটে রূপান্তর করাই এই দক্ষতার মূল কথা। টেক্সট, ডেটা এবং ছবির মতো বিভিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে একটি স্পষ্ট বার্তা তৈরি করার ক্ষমতার কদর এখন আকাশছোঁয়া।

এআই যুগে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন মানে কেবল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করা বা ইনফ্লুয়েন্সারদের মতো প্রচার করা নয়। ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বসুলভ ভাবনা এবং প্রতিষ্ঠানের গভীর জ্ঞানকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার ক্ষমতাই হলো আসল দক্ষতা। তথ্যের ভিড়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় কমিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এর লক্ষ্য। এর ফলে যেমন আস্থা বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রভাব।

এই কারণেই সংস্থাগুলো এখন কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছে। ব্র্যান্ড স্টোরি শক্তিশালী করা, গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারদের আস্থা অর্জনের মতো সুবিধাগুলো এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। বাজার সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কন্টেন্ট-নির্ভর কার্যক্রমের মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

কোরসেরা রিপোর্টটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ হাজার প্রতিষ্ঠানের ৬০ লক্ষ কর্মীর শেখার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এই সমীক্ষা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—এআই দক্ষতা এখন আর কেবল বিশেষ কোনো কারিগরি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, সেলস থেকে শুরু করে লিডারশিপ রোল পর্যন্ত এই দক্ষতা ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান এবং সমস্যা বিশ্লেষণের মতো মানবিক গুণাবলির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

তবে এই প্রতিবেদনটি এমনটা বলছে না যে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। যারা ডেটা নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য SQL-এর মতো মৌলিক দক্ষতাগুলো এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। কেবল সিস্টেম তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেই সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত ফলাফলকে সহজভাবে বুঝিয়ে বলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সঠিক চিন্তাভাবনা ছাড়া এআই ব্যবহার করলে তা কেবল অর্থহীন শব্দসমষ্টি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যাটি এখন বড় বড় সংস্থাগুলোকেও ভাবিয়ে তুলছে।

এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এখন একটি লিডারশিপ স্কিল বা নেতৃত্বের দক্ষতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। যেসব নেতা তাদের চিন্তাভাবনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারছেন, তারা ইন্ডাস্ট্রিতে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। এই দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে পদমর্যাদাকে আরও সুসংহত করছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ থেকে শুরু করে প্রকাশ্য ঘোষণা—সবক্ষেত্রেই এটি স্বচ্ছতা নিয়ে আসছে। কম সময়ে বেশি প্রভাব ফেলার সুযোগ করে দিচ্ছে এই দক্ষতা।

এআই যুগে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার এক নতুন পথ এখন পরিষ্কার। কেবল প্রযুক্তি বোঝাই নয়, বরং ভাবনাগুলোকে অর্থপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে পারাই হয়ে উঠছে আসল শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে কর্মজগৎকে সংজ্ঞায়িত করার প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে এই কন্টেন্ট ক্রিয়েশন দক্ষতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *