এআই সামিটে কংগ্রেসের টাকার খেলা নাকি বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য? উত্তাল নেটদুনিয়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানীতে আয়োজিত এআই (AI) সামিট ঘিরে দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছিল, এই সম্মেলনকে কলঙ্কিত করতে নাকি ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের টাকা ছড়িয়েছে কংগ্রেস। তবে শুক্রবার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে পালটা তোপ দাগলেন কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনেত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পুরো বিষয়টিই বিজেপি আইটি সেলের মস্তিষ্কপ্রসূত একটি সাজানো গল্প।
‘ভেক নিউজ’ ও আইনি হুঁশিয়ারি
সুপ্রিয়া শ্রীনেত দাবি করেন, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত ‘উইচ হান্ট’ বা হেনস্তা চালানো হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেস বা দলের কোনো শাখা কোনো ইনফ্লুয়েন্সারকে এক পয়সাও দেয়নি। মজার বিষয় হলো, আইনি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতেই অনেক তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার ভয় পেয়ে নিজেদের ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন। শ্রীনেতের প্রশ্ন, “যদি তারা সততার সাথে কোনো প্রচার করে থাকেন, তবে আইনি লড়াইয়ের কথা শুনে ভিডিও কেন মুছলেন?”
বিজেপির দিকেই আঙুল
কংগ্রেসের অভিযোগ, যারা এই প্রচার চালাচ্ছেন তারা আসলে মোদী ভক্ত বা বিজেপি ইকোসিস্টেমের অংশ। নিয়মিতভাবে তারা গেরুয়া শিবিরের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যারেটিভ তৈরি করেন। অথচ, আজ পর্যন্ত একজন ইনফ্লুয়েন্সারও বলতে পারেননি যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঠিক কোন ব্যক্তি বা কোন নম্বর থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শ্রীনেতের মতে, এটি আদতে কংগ্রেসকে কালিমালিপ্ত করার একটি সস্তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
এআই সামিটে ‘চিনা রোবট’ আতঙ্ক
বিজেপিকে পালটা আক্রমণ করে শ্রীনেত এআই সামিটের আসল কঙ্কালসার চেহারাটা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। সম্মেলনে আসা মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হওয়া থেকে শুরু করে ইন্টারনেটের বেহাল দশা— কিছুই বাদ যায়নি। সবথেকে বড় অভিযোগ হলো, ভারতের উদ্ভাবন প্রদর্শনের মঞ্চে কীভাবে চিনা রোবট এবং কোরিয়ান বল জায়গা পেল? কেন কোনো নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই বিদেশি প্রযুক্তি এভাবে ভারতের সরকারি ইভেন্টে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা
কংগ্রেসের দাবি, এআই সামিটের ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতেই এই ‘টাকা দিয়ে পোস্ট’ করানোর গল্প ফাঁদা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই ফেক নিউজের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে, যেখানে এক পক্ষ দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তো অন্য পক্ষ দেশের নিরাপত্তার গলদ তুলে ধরছে।

