এআই সামিট কাণ্ডে হুলুস্থুল! তিন কংগ্রেস কর্মীকে ধরতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল দিল্লি ও হিমাচল পুলিশ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 27, 202610:05 am
দিল্লি বনাম হিমাচল প্রদেশ পুলিশ! মাঝরাস্তায় পুলিশের সঙ্গে পুলিশের নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল উত্তর ভারত। গত সপ্তাহে দিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইম্প্যাক্ট সামিট’-এ জামা খুলে অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করার ঘটনাটি এখন দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে এক বড়সড় আইনি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এই ঘটনার জেরে বুধবার সিমলার রোহরু থেকে তিনজন কংগ্রেস কর্মীকে আটক করাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল।
রিসর্টে হানা ও মাঝরাস্তায় রুদ্ধশ্বাস সংঘাত
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার ভোরে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের একটি দল অতর্কিতে সিমলার একটি রিসর্টে হানা দেয় এবং সেখান থেকে অভিযুক্ত তিন কংগ্রেস কর্মীকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ফিরতি পথে। অভিযুক্তদের নিয়ে যখন দিল্লি পুলিশ ফিরছিল, তখন সোলান জেলার ধরমপুরের কাছে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়।
হিমাচল পুলিশের দাবি, স্থানীয় থানায় আগাম কোনো তথ্য না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তাদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই টানাপোড়েনের জেরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দুই রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়।
সিসিটিভি গায়েব ও অপহরণের অভিযোগ
হিমাচল পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সাদা পোশাকে রিসর্টে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি করে। তারা রিসর্টের সিসিটিভি ডিভিআর (DVR) কেড়ে নেয় এবং সেখানে থাকা পর্যটকদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কোনো নথিপত্র বা স্থানীয় অনুমতি ছাড়া এই ধরনের আচরণকে কার্যত ‘অপহরণ’ হিসেবে দেখছে পাহাড়ি রাজ্যের পুলিশ।
আদালতের দ্বারস্থ দুই পক্ষই
বর্তমানে আটক হওয়া তিন কংগ্রেস কর্মীকে পুনরায় সিমলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং আজই তাদের স্থানীয় আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিমাচল পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা এফআইআর দায়ের করেছে। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় দিল্লি পুলিশ আগেই ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিবিকে গ্রেফতার করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন দুই রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দিল্লির ‘স্পেশাল সেল’ বনাম হিমাচলের স্থানীয় পুলিশ— শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

