লেটেস্ট নিউজ

এই ৪০টি চাকরির ‘হত্যা’ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তালিকা প্রকাশ করল মাইক্রোসফট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট যত বাড়ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে কর্মসংস্থান হারানোর মেঘ। সম্প্রতি প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে এমন ৪০টি পেশার নাম যা জেনারেটিভ এআই-এর প্রভাবে আমূল বদলে যেতে পারে বা অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। মাইক্রোসফটের দাবি, আগামী দিনে মূলত ‘হোয়াইট কলার’ বা মেধাভিত্তিক পেশাগুলোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

ঝুঁকির মুখে থাকা উল্লেখযোগ্য পেশার তালিকা:

মাইক্রোসফটের গবেষণা অনুযায়ী, লেখালেখি, বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সাথে যুক্ত পেশাগুলোতে এআই-এর প্রভাব হবে সর্বাধিক। তালিকার শীর্ষস্থানীয় কিছু পেশা হলো:

  • সংবাদমাধ্যম ও সৃজনশীল ক্ষেত্র: সাংবাদিক, সম্পাদক, লেখক, প্রুফরিডার, বিজ্ঞাপন বিক্রয় নির্বাহী এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা।
  • শিক্ষা ও গবেষণা: ইতিহাসবিদ, গণিতবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক।
  • কারিগরি ও করপোরেট: ডেটা সায়েন্টিস্ট, ওয়েব ডেভেলপার, ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট এবং টেকনিক্যাল কন্টেন্ট রাইটার।
  • পরিষেবা খাত: কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ, দোভাষী, ট্রাভেল এজেন্ট এবং ব্যক্তিগত আর্থিক উপদেষ্টা।

কেন এই পেশাগুলোই লক্ষ্যবস্তু?

মাইক্রোসফট প্রায় ২ লক্ষ কর্মক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, ইমেল লেখা, মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ তৈরি বা কোডিংয়ের মতো কাজে কর্মীরা এখন ব্যাপকভাবে ‘কোপাইলট’ (AI Assistant) ব্যবহার করছেন। যেসব কাজে ভাষা এবং যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ প্রয়োজন, সেখানেই এআই মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখছে। আমেরিকার প্রায় ৫০ লক্ষ গ্রাহক পরিষেবা এবং বিক্রয় প্রতিনিধি সরাসরি এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।

সুরক্ষিত কোন পেশাগুলো?

প্রতিবেদনে আশার আলোও রয়েছে। মূলত কায়িক পরিশ্রম এবং যন্ত্রপাতির সরাসরি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় এমন কাজগুলোতে এআই-এর প্রভাব নগণ্য। যেমন:

  • জল শোধনাগার অপারেটর এবং রেলওয়ে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ।
  • ফাউন্ড্রির কাজ, কাঠ কাটা এবং মেঝে ফিনিশিং।
  • হাসপাতালের পরিচারক এবং মোটরবোট চালক।

এআই কি সত্যিই চাকরি ‘হত্যা’ করবে?

এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং মাইক্রোসফটের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই সরাসরি চাকরি না কেড়ে বরং কাজের ধরন বদলে দেবে। তবে একটি কঠোর সত্য উঠে এসেছে—ভবিষ্যতে এআই আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না, বরং সেই ব্যক্তিটিই আপনার জায়গা নেবে যিনি এআই ব্যবহারে দক্ষ। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত বা ডিগ্রিধারী পেশাদারদের জন্য এখন এআই-কে হুমকির পরিবর্তে একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করাই হবে টিকে থাকার একমাত্র পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *