এএলএস রোগের সঙ্গে জিনের গভীর যোগসূত্র পেলেন হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা
অ্যামিয়োট্রপিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা এএলএস নামক মরণঘাতী স্নায়ুর রোগের নেপথ্যে জিনের ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এই জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিজ্ঞানীদের মতে, মূলত বংশগত কারণে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রোগ ছড়াতে পারে। এটি শরীরে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে পেশি ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে রোগী হাঁটাচলা ও কথা বলার শক্তি হারিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এসওডি১ এবং টিডিপি-৪৩ নামক জিনের মিউটেশনের ফলে শরীরে বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়, যা স্নায়ুকোষের মৃত্যু ঘটায়। বর্তমানে এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা নিরাময় পদ্ধতি নেই। প্রায় ৩০টিরও বেশি জিন এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে গবেষকরা দাবি করেছেন। প্রতি এক লাখে অন্তত পাঁচজন মানুষ এই স্নায়বিক জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাঁটাচলায় বারবার হোঁচট খাওয়া, পায়ের পেশি অসাড় হওয়া এবং খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। পরিবারে কারও স্নায়ুর রোগ বা ডিমেনশিয়ার ইতিহাস থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে আগাম জিনগত পরীক্ষা করিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

