একজন প্রিয় বন্ধুকে হারালাম; এই শূন্যস্থান কখনো পূরণ হবে না: ফড়নবীস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। শোকাতুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারালেন।
ফড়নবীস ঘোষণা করেছেন যে, অজিত পাওয়ারের সম্মানে আজ (২৮ জানুয়ারি) সরকারি ছুটি থাকবে এবং রাজ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ওনার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পর এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে তিনি আর আমাদের মধ্যে নেই।”
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফড়নবীস অজিত পাওয়ারকে একজন জননেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি মহারাষ্ট্রের মাটি ও মানুষের সমস্যাগুলো গভীরভাবে বুঝতেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের নেতৃত্ব তৈরি হতে বহু বছর সময় লাগে।” ফড়নবীস জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি অজিত পাওয়ারের তুতো বোন সুপ্রিয়া সুলে এবং পুত্র পার্থ পাওয়ারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আমি এবং একনাথ শিন্ডে দুজনেই এখন বারামতির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি। ওনার পরিবার বারামতিতে একত্রিত হওয়ার পর পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।” শোকের এই মুহূর্তে গোটা রাজ্য পাওয়ার পরিবার এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) পাশে রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় এক বিমান দুর্ঘটনায় ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার এবং আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বারামতির কাছে অবতরণের সময় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আশিষ শেলার, রবীন্দ্র চ্যবন এবং চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে সহ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতারা পাওয়ারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী আশিষ শেলার বলেন, “মহারাষ্ট্র একজন অভিজ্ঞ, কর্তব্যনিষ্ঠ এবং দৃঢ়চেতা নেতাকে হারালো। প্রশাসনের ওপর তাঁর দখল এবং মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁর নিষ্ঠা অমলিন হয়ে থাকবে।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্র চ্যবন বলেন, “অজিত পাওয়ারকে ছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতি কল্পনা করা আসাম্ভব। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালনের রেকর্ড ওনার নামেই ছিল।” অন্যদিকে, রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে পাওয়ারকে তাঁর অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করে বলেন, দেশ একজন দূরদর্শী নেতাকে হারালো।

