লেটেস্ট নিউজ

একাকিত্ব কাটিয়ে সুস্থ সম্পর্ক গড়ার জাদুকরী কৌশল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ব্যস্ত জীবন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়েও বর্তমান বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন তীব্র একাকিত্বে ভুগছেন। মেটা-গ্যালাপের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট কিছু অভ্যাস আর মানসিকতার পরিবর্তনই পারে এই পরিস্থিতি বদলে দিতে।

একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অনেকেই নির্জনতায় আনন্দ খুঁজে পান, আবার অনেকে জনাকীর্ণ স্থানেও নিজেকে একা মনে করেন। দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ ও সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।

সম্পর্ক মজবুত করতে খুব বড় উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। লেখক অ্যাডাম স্মাইলি পজওলস্কির মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার প্রিয়জনদের খোঁজ নেওয়া বা নতুন কারও সঙ্গে আলাপ করাই হতে পারে শুরুর ধাপ। গবেষণায় দেখা গেছে, কারো সঙ্গে সাধারণ বন্ধুত্বের জন্য প্রায় ৯০ ঘণ্টা এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য অন্তত ২০০ ঘণ্টা সময় কাটানো প্রয়োজন। তাই ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় মানুষদের জন্য নিয়মিত সময় বরাদ্দ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।

সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম চাবিকাঠি হলো স্পষ্ট সীমারেখা বা বাউন্ডারি। থেরাপিস্ট নেড্রা গ্লোভার টাওয়াব জানান, নিজের চাওয়া-পাওয়া এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করলে ভুল বোঝাবুঝি কমে। পাশাপাশি নিজের ‘অ্যাটাচমেন্ট স্টাইল’ বা আচরণের ধরন বুঝতে পারলে সম্পর্কের জটিলতা সামলানো সহজ হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, সঠিক পদ্ধতিতে মেটানো গেলে ছোটখাটো ঝগড়া বা মতবিরোধও সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ডব্লিউ. জনসনের মতে, মানুষ সাধারণত সংঘর্ষ এড়ানো, নিজের জেদ বজায় রাখা কিংবা আপোসের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করে। নিজের ও সঙ্গীর আচরণের এই ধরনগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *