এক দেশে দুই সেনাবাহিনী! আর্টেশ নাকি আইআরজিসি—ইরানের সুপ্রিম লিডারের আসল ভরসা কে? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সামরিক শক্তির সমীকরণ বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আলাদা। সেখানে দেশের সীমান্ত রক্ষা করার জন্য যেমন একটি প্রথাগত সেনাবাহিনী রয়েছে, তেমনই শাসনব্যবস্থা ও বিপ্লবকে টিকিয়ে রাখতে রয়েছে সমান্তরাল আরও একটি শক্তিশালী বাহিনী। এই দুই বাহিনীর গঠন, উদ্দেশ্য এবং ক্ষমতার লড়াই নিয়েই গড়ে উঠেছে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক জটিল ধাঁধা।
ইরানের প্রথাগত সেনাবাহিনী বা আর্টেশ
ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে বলা হয় ‘আর্টেশ’। এদের মূল কাজ হলো দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। বিদেশি আক্রমণ থেকে সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখাই এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। অন্য যেকোনো দেশের সেনাবাহিনীর মতো আর্টেশও জল, স্থল ও আকাশ—এই তিন শাখায় বিভক্ত। এটি মূলত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং রাজনীতির চেয়ে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলেই বেশি মনোনিবেশ করে।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর আইআরজিসি গঠন করা হয়েছিল। মূলত বিপ্লব-পরবর্তী নতুন সরকারের প্রতি অনুগত একটি বিশেষ বাহিনী তৈরির উদ্দেশ্যেই এর জন্ম। আর্টেশ যেখানে দেশের সীমান্ত পাহারা দেয়, আইআরজিসি সেখানে ইসলামিক শাসনব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা করে।
এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো, এরা সরাসরি ইরানের Supreme \titleonly লিডারের কাছে রিপোর্ট করে। এদের নিজস্ব সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান শাখা রয়েছে। এছাড়া আইআরজিসির অধীনে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট কাজ করে:
- কুদ্স ফোর্স: যারা বিদেশের মাটিতে বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেয়।
- বাসিজ: এটি একটি বিশাল স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া বাহিনী, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো গণবিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হয়।
আর্টেশ বনাম আইআরজিসি: মূল পার্থক্যগুলো কী?
১. উদ্দেশ্য: আর্টেশ কাজ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে। অন্যদিকে, আইআরজিসির মূল লক্ষ্য হলো ইসলামিক বিপ্লব ও বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা।
২. জবাবদিহিতা: আর্টেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও আইআরজিসি সরাসরি Supreme \titleonly লিডারের নির্দেশে চলে।
৩. রণকৌশল: আর্টেশ প্রথাগত যুদ্ধে পারদর্শী। আইআরজিসি আদর্শগত লড়াই, অপ্রচলিত বা ছায়াযুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে।
৪. রাজনীতি ও অর্থনীতি: রাজনীতিতে আর্টেশের প্রভাব সীমিত। কিন্তু আইআরজিসি ইরানের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক বিশাল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইরানের এই দ্বৈত সামরিক কাঠামো দেশটিকে একদিকে যেমন বাহ্যিক শত্রু থেকে রক্ষা করছে, অন্যদিকে শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ভিতকেও করেছে নিশ্ছিদ্র। তবে ক্ষমতার এই বন্টন ও Supreme \titleonly লিডারের প্রতি আনুগত্যের লড়াই ইরানকে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

