লেটেস্ট নিউজ

এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ! সুপ্রিম কোর্টের চরম হুঁশিয়ারিতে নিষিদ্ধ হলো অষ্টম শ্রেণির বই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থায় ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত অধ্যায় ঘিরে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। Supreme \titleonly কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচারবিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এই প্রচেষ্টায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এবং নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এই মামলার নিষ্পত্তি হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সাফ কথা, এই ঘটনায় কেবল অনুশোচনা যথেষ্ট নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশজুড়ে বই বাজেয়াপ্ত ও অনলাইন প্রচার নিষিদ্ধের নির্দেশ

Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে এই বিতর্কিত পাঠ্যবইটি ভারতসহ বিদেশের বাজার থেকেও অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, বাজার থেকে এই বইয়ের সমস্ত কপি দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বইয়ের কোনো অংশ বা সম্পূর্ণ অধ্যায় শেয়ার করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনসিইআরটি (NCERT) চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিনেশ প্রসাদ সাকলানির কাছে এই বিষয়ে হলফনামা তলব করেছে আদালত।

কেন ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত?

সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো আলোচনার পাশাপাশি আদালত অবমাননাকর ভাবে দুর্নীতি ও মামলার দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি পর্যালোচনার পর ইতিমধ্যেই ৩২টি কপি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বিতর্কিত অংশটি সম্পূর্ণ সংশোধন করা হবে। তবে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এই ধরনের লিখনশৈলী কোনোভাবেই অনিচ্ছাকৃত হতে পারে না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে যা সরাসরি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনমানসে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

দোষীদের সরকারি চাকরিতে আজীবন নিষেধাজ্ঞা

শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, এই বিতর্কিত অংশটি সংযোজনের পেছনে যে দুই ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁরা আর কোনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এনসিইআরটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বিবৃতিতে প্রকৃত ক্ষমা চাওয়ার কোনো মানসিকতা ফুটে ওঠেনি।

শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

আইনজীবী মহলের একাংশ আদালতের এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, স্কুল স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত কোনো বিষয় যথাযথ তথ্যপ্রমাণ বা গভীর বিশ্লেষণ ছাড়া পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা কিশোর মনে ভুল বার্তা দিতে পারে। বিশেষ করে বিচারব্যবস্থার মতো স্তম্ভের মর্যাদা রক্ষায় পাঠ্যক্রম তৈরির সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি ছিল।

বর্তমানে গোটা দেশ তাকিয়ে রয়েছে এনসিইআরটির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা এবং শিক্ষা পাঠ্যক্রমের বিশুদ্ধতা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *