লেটেস্ট নিউজ

এপস্টাইন কাণ্ডে তোলপাড়: আমেরিকার হাতে এল ৩০ লক্ষ পাতার গোপন নথি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউ ইয়র্ক: বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী মহলে আতঙ্কের নাম এখন জেফ্রি এপস্টাইন। প্রয়াত এই মার্কিন ধনকুবেরের যৌন কেলেঙ্কারি মামলায় শুক্রবার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল আমেরিকার বিচার বিভাগ (DOJ)। ২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রায় ৩০ লক্ষ পাতার অত্যন্ত সংবেদনশীল তদন্ত নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নথির প্রকাশ বিশ্বের রাঘববোয়াল রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

স্বচ্ছতা আইনের অধীনে বড় পদক্ষেপ

মূলত ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, এপস্টাইনের সঙ্গে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রকৃত সম্পর্ক এবং নাবালিকা ও তরুণীদের ওপর চলা পাশবিক যৌন নির্যাতনের সমস্ত গোপন তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে আনা।

তদন্তের গভীরতা ও ব্যাপ্তি

  • বিশাল নথি: বর্তমানে প্রকাশিত ৩০ লক্ষ পাতার সঙ্গে মিলিয়ে এই মামলায় মোট নথির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ লক্ষ।
  • আইনি নজরদারি: এই পাহাড়প্রমাণ নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এবং ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে শত শত আইনজীবীর একটি বিশেষ দল নিয়োগ করা হয়েছে।
  • কাদের নাম রয়েছে?: আগের নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপস্টাইনের ব্যক্তিগত জেটে সফরের রেকর্ড এবং বিল ক্লিনটনের ছবি পাওয়া গিয়েছিল। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তাঁরা এপস্টাইনের অবৈধ কাজের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন।

কী লুকিয়ে আছে এই ফাইলে?

নতুন এই ফাইলগুলোতে এফবিআই (FBI) এজেন্টদের জবানবন্দি, কল লগ এবং সেইসব তরুণীদের ইন্টারভিউ রয়েছে যাঁদের যৌনকাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্যগুলো থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে চলা যৌন পাচার চক্রের হাড়হিম করা চিত্র ফুটে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে নিউ ইয়র্কের সংশোধনাগারে রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন জেফ্রি এপস্টাইন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অন্যদিকে, এই মামলার প্রধান সাক্ষী ও ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া রবার্টস গিফ্রে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় আত্মহত্যা করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এবং এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলের তত্ত্বাবধানে এই স্বচ্ছতা প্রক্রিয়া চলছে। বছরের পর বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা ক্ষমতাশালীদের অন্ধকার জগৎকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই এখন মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *