লেটেস্ট নিউজ

এপস্টিন ফাইলে বিস্ফোরক ট্রাম্প! ইজ়রায়েলের সঙ্গে ‘গোপন আঁতাত’ ও বিপুল দুর্নীতির পর্দাফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন: মার্কিন রাজনীতির অলিন্দে আছড়ে পড়ল নতুন এক মহাপ্রলয়। জেফ্রি এপস্টিন কেলেঙ্কারির সর্বশেষ নথিপত্র বা ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রকাশ্যে আসতেই কাঠগড়ায় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এফবিআই-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ইজ়রায়েলের গভীর প্রভাব। স্রেফ কূটনৈতিক বন্ধুত্ব নয়, বরং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের এক ‘গোপন সমঝোতা’ বা ডিল ছিল বলে নতুন প্রকাশিত ফাইলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জায়োনিস্ট চাবাড নেটওয়ার্ক ও কুশনার কানেকশন

প্রকাশিত নথিতে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভূমিকা। অভিযোগ, ট্রাম্পের প্রথম দফার প্রেসিডেন্সিতে কুশনারের প্রভাব ছিল সীমাহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক ইহুদি সংগঠন ‘চাবাড’-এর সঙ্গে কুশনার পরিবারের অতি-ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। অতি জায়োনিস্ট হিসেবে পরিচিত এই চাবাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইজ়রায়েলের স্বার্থে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি, রাশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে কুশনারের বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে এই রিপোর্টে।

সন্দেহজনক সম্পত্তি লেনদেন ও কোটি কোটি ডলারের কারচুপি

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে এপস্টিন ফাইল। ২০০৮ সালের একটি আবাসন চুক্তির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় বেভারলি হিলসের একটি ম্যানসন ৪১ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন ট্রাম্প, যা মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে ৯৫ মিলিয়ন ডলারে একটি নামহীন ‘শেল কো ম্পা নি’র কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং মুদ্রাপাচারের অংশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহু-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে কি অন্য অঙ্ক?

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের দহরম-মহরম নতুন কিছু নয়। প্যালেস্তাইন বা লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলার প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন বারবার বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তবে এপস্টিন ফাইলের দাবি অনুযায়ী, এই সমর্থনের ভিত্তি কেবল আদর্শগত নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে নিপুণ বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক লেনদেন। বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত প্রায় ৩০ লক্ষ ফাইল এবং হাজার হাজার ভিডিয়ো-ছবি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের গদি টলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখছে।

পরিবারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার

রিপোর্টে কুশনারের বাবার অতীতকেও টেনে আনা হয়েছে। কুশনারের বাবা এক সময় আর্থিক অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যাকে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বিশেষ ক্ষমতাবলে ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিজের নিকটাত্মীয়কে বাঁচাতে ক্ষমতার এই ব্যবহার নিয়েও নতুন করে উত্তাল হয়েছে আমেরিকার রাজনীতি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এপস্টিন ফাইলে থাকা এই তথ্যাদি আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার ভাবমূর্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *