‘ঐতিহাসিক বন্ধন’: ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমেরিকা-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের বড় বার্তা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণতন্ত্রের এই মেলবন্ধনকে তিনি অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন।
সোমবার ভারত তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্যাপন করেছে। ১৯৫০ সালের এই দিনে দেশের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল, যা ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করে। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভারতের সরকার এবং জনগণকে তাদের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এক ঐতিহাসিক বন্ধন ভাগ করে নেয়।”
ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (X) প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যটি শেয়ার করেছে।
এর আগে সোমবার সকালে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপনে শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান যে, প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। দিল্লির আকাশে মার্কিন তৈরি যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নকে তিনি ভারত-মার্কিন ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাষ্ট্রদূত তার এক্স পোস্টে লিখেছেন, “শুভ প্রজাতন্ত্র দিবস, ভারত! প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে উপস্থিত হতে পেরে আমি গর্বিত। এটি ভারতের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক চেতনার এক অনন্য উদযাপন। ভারতীয় আকাশে মার্কিন নির্মিত বিমান উড়তে দেখে আমি রোমাঞ্চিত, যা আমাদের দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের শক্তির পরিচায়ক।”
উল্লেখ্য যে, গত এক বছরে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে বেশ কিছু টানাপোড়েন দেখা গেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়। এছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়েও ওয়াশিংটন একাধিকবার শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছিল।
ভারত মার্কিন শুল্কের এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষা করতে তারা প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গত বছর আগস্টে যখন প্রথম শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন ভারত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল যে, এই ধরনের ‘টার্গেটিং’ বা লক্ষ্যবস্তু করা অন্যায্য। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

