ওটা যৌন লালসা নয় বরং অকৃত্রিম ভালোবাসা, পকসো মামলা খারিজ করে ঐতিহাসিক রায় উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি পকসো (POCSO) মামলা খারিজ করে দিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং আবেগঘন পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি কোনোভাবেই যৌন লালসা বা লালসা-প্রসূত অপরাধ ছিল না, বরং এটি ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিচারপতি অলোক কুমার বর্মার একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়ে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া রদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
ঘটনাটি উত্তরাখণ্ডের চম্পাবত জেলার। এক যুবকের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে নিগ্রহের অভিযোগে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে মামলা চলাকালীন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। আদালত নথিপত্রে দেখতে পায় যে, অভিযুক্ত যুবক এবং অভিযোগকারিণী তরুণী বর্তমানে আইনত বিবাহিত এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে।
বিচারপতি অলোক বর্মা রায় প্রদানের সময় উল্লেখ করেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামলা চালিয়ে যাওয়া বা যুবককে কারাগারে পাঠানো একটি সাজানো সংসারকে ধ্বংস করে দেবে। এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।” আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয় যে, যেহেতু দম্পতি এখন সুখে সংসার করছেন এবং তাঁদের সন্তান রয়েছে, তাই অতীতের কোনো অভিযোগ নিয়ে আইনি টানাহেঁচড়া করা নিরর্থক। আদালত এই সম্পর্ককে ‘পবিত্র ভালোবাসা’ হিসেবে অভিহিত করে পকসো আইনের কঠোরতার বদলে মানবিকতাকে স্থান দিয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনি যুক্তি
আদালতে পেশ করা হলফনামায় ওই তরুণী নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই যুবককে বিয়ে করেছেন এবং কোনো চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেননি। এমনকি নিজের জন্ম তারিখ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র এবং আধার কার্ড পেশ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বিয়ের সময় তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
আদালত এই মামলায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলিকে প্রধান্য দিয়েছে:
- পরিবারের স্থায়িত্ব: দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে এবং তাঁরা শান্তিতে বসবাস করছেন। মামলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারত।
- সম্মতি ও ভালোবাসা: আদালত স্বীকার করে নিয়েছে যে, এই ঘটনাটি কোনো অপরাধমূলক মানসিকতা থেকে নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসার টানে ঘটেছিল।
- ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য: আইন সর্বদা সমাজের মঙ্গলের জন্য। যদি আইন একটি সুখী পরিবারকে ভেঙে দেয়, তবে তা ন্যায়বিচার হতে পারে না।
পকসো আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন বার্তা
সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসো আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রে আদালত দেখিয়েছে যে, বাস্তব পরিস্থিতি এবং দম্পতির বর্তমান সম্পর্কের গভীরতা বিচার করে আইনি যান্ত্রিকতা এড়িয়ে চলা সম্ভব। সরকারি আইনজীবীরা এই পিটিশনের বিরোধিতা করলেও, বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে যেখানে ভালোবাসা ও সংসার মুখ্য, সেখানে লালসার অভিযোগ ধোপে টেকে না।
এই রায় আগামী দিনে একই ধরণের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইনের কঠোরতা যেন কোনোভাবেই মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং ভালোবাসার অধিকারকে খর্ব না করে।

