ওপার বাংলার অশান্তিতে কাঁ্পছে সীমান্ত! ড্রোন হামলা রুখতে বঙ্গে প্রথমবার নামছে ‘কিলার জ্যামার’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ আর নেপথ্যে পাকিস্তানের লাগাতার উসকানি— এই দুই সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এবার বাংলার সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। ড্রোন মারফত অনুপ্রবেশ কিংবা বড়সড় হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আর তাই শত্রুপক্ষের ‘চোখ’ ওড়াতে এবং আকাশপথে হামলা রুখতে এই প্রথম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অত্যাধুনিক অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম ও জ্যামার গান মোতায়েন করছে ভবানী ভবন।
আকাশপথে কড়া নজরদারি ও ড্রোন বিনাশ
রাজ্য পুলিশের কোস্টাল বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই উন্নত প্রযুক্তির সিস্টেম ইনস্টল করার কাজ শুরু হয়েছে। মূলত তিনটি সেন্সরের (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, রেডার ও অ্যাকুস্টিক) মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চালাবে এই যন্ত্র। সীমান্তের আকাশে সন্দেহজনক কোনো আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) বা ড্রোন দেখা দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট পাঠাবে এই সিস্টেম।
কীভাবে কাজ করবে এই ‘কিলার জ্যামার’?
- সিগন্যাল জ্যাম: অনুপ্রবেশকারী ড্রোনের ইনপুট ও আউটপুট সিগন্যাল মুহূর্তের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এই জ্যামার।
- লেজার অ্যাটাক: জ্যামার গানে থাকা শক্তিশালী লেজার রশ্মি লক্ষ্যভ্রষ্ট করবে ড্রোনকে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে লেজার তাক করলেই কার্যক্ষমতা হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়বে শত্রুর ড্রোন।
- লোকেশন ট্র্যাকিং: ড্রোনের সঠিক অবস্থান বা লোকেশন নিমেষেই জানিয়ে দেবে এই প্রযুক্তি।
কেন এই সতর্কতা?
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্তে বিএসএফের নজরদারিতে থাকা কিছু ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদীরা ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক বা ড্রাগ পাচার করতে পারে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় বাংলার আকাশে বেশ কিছু রহস্যময় ড্রোনের আনাগোনা চিন্তা বাড়িয়েছিল প্রশাসনের। বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে সেই ঝুঁকি আর নিতে চাইছে না রাজ্য। হালকা ও ভ্রাম্যমাণ হওয়ার কারণে এই জ্যামারগুলো প্রয়োজনে গাড়ির মাথায় বসিয়ে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো সম্ভব হবে।

