লেটেস্ট নিউজ

‘ওরা আমার স্তন নিয়ে কথা বলছিল’, ১০ বছরের শিশুদের অশালীন মন্তব্যের শিকার মহিলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে নারী নিরাপত্তা এবং শিশুদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগজনক এক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শহরে জগিং করার সময় এক মহিলার অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর বয়সী একদল শিশু তার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছে।

ঘটনাটির ভিডিও মহিলা নিজেই ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা বর্তমানে দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে।

ভিডিওতে শিশুদের আচরণ

শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, মহিলাটি শিশুদের প্রশ্ন করছেন তারা কেন এমন কথা বলেছে। শুরুতে শিশুরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, মহিলা দৃঢ়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাদের মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন:

“১০ বছরের শিশুদের মধ্যে এই ধরনের ভাষা এবং এই ধরনের মানসিকতা থাকা সত্যিই ভয়াবহ। ওরা আমার শরীরের বিশেষ অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করছিল।”

ঠিক কী ঘটেছিল?

ভাইরাল ভিডিও অনুযায়ী, ওই মহিলা প্রতিদিনের মতো ওই এলাকায় জগিং করছিলেন। সেই সময় কাছেই খেলাধুলা করা কিছু শিশু তাকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করতে শুরু করে।

মহিলার অভিযোগ, তারা তার স্তন (Boobs) নিয়ে অশালীন কথা বলছিল। তিনি যখন তাদের মুখোমুখি হন এবং প্রতিবাদ করেন, তখন শিশুদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ইন্টারনেটে ‘প্যারেন্টিং’ নিয়ে বিতর্ক

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ শিশুদের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

  • প্যারেন্টিং নিয়ে প্রশ্ন: অনেকের মতে, ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং বাবা-মায়ের নজরদারির অভাবই শিশুদের এই ধরনের আচরণের মূল কারণ।
  • আইনি ব্যবস্থার দাবি: কেউ কেউ দাবি তুলেছেন যে, বেঙ্গালুরু পুলিশের উচিত ওই শিশুদের বাবা-মাকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত কাউন্সেলিং করানো।
  • অতিরিক্ত এক্সপোজারের প্রভাব: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, অল্প বয়সে স্মার্টফোন এবং সেন্সরবিহীন কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসায় শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বেঙ্গালুরুতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে বেঙ্গালুরুতে सार्वजनिक স্থানে নারীদের হেনস্থার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এত কম বয়সী শিশুদের মুখে এই ধরনের মন্তব্য সমাজের জন্য এক নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক সমস্যা যা স্কুল এবং পরিবারে সঠিক নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

বর্তমানে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পুলিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভাইরাল ভিডিওটি সুশীল সমাজকে এই বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *