কমিশনের ভুলে ‘সন্দেহজনক’ লক্ষ লক্ষ ভোটার, তুঘলকি কাণ্ডে হয়রানি চরমে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সব ঠিক থাকলেও খাতা-কলমে গোলমাল! নির্বাচন কমিশনের ভুলে রাজ্যে লক্ষ লক্ষ সাধারণ ভোটারের নাম উঠে গেল ‘সন্দেহজনক’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে এই তালিকা জনসমক্ষে আসতেই কমিশনের চূড়ান্ত গাফিলতি ও তুঘলকি কাণ্ড ফাঁস হয়ে পড়েছে।
কী এই বিতর্ক?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার ও তাঁর আত্মীয়ের বয়সের ব্যবধান যথাযথ না থাকলে বা নামের বানানে অমিল থাকলে তাঁদের ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে:
- যাদবপুরের এক ভোটারের ক্ষেত্রে তাঁর ও তাঁর ঠাকুমার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর হওয়া সত্ত্বেও কমিশন বলছে সেই ব্যবধান নাকি ৪০ বছরের কম!
- মেদিনীপুরের ভোটারের নামের বানান ২০০২ সাল থেকে একই থাকলেও তাঁকে ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় ফেলা হয়েছে।
- এমনকি এক ব্যক্তির চার সন্তান ভোটার তালিকায় থাকলে তাঁকেও নিয়মের গেরোয় ফেলে হেনস্তা করা হচ্ছে।
সফটওয়্যারের দোহাই ও হয়রানি
রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ এই ভুলের শিকার। এই বিষয়ে বিএলও (BLO) বা ইআরও-দের (ERO) কাছে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মিলছে না। আধিকারিকদের দাবি, পুরো বিষয়টি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ভুল দেখেও তাঁদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। উল্টে নির্দোষ ভোটারদের এখন শুনানির নোটিসের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজেদের এই বিশাল গলদ ঢাকতেই কমিশন আগে এই তালিকা প্রকাশ করতে চায়নি। আদালতের চাপে তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই এখন আমজনতার হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কমিশনের এই ‘অঙ্ক ভুলে’র মাশুল কেন সাধারণ মানুষ দেবেন, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

