কম বয়সেই ঋতুস্রাব? মুরগি না কি জীবনযাত্রা— দায়ী কে? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আজকাল অনেক অভিভাবকই একটি বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন— কন্যারা সময়ের অনেক আগেই ঋতুপ্রান্ত বা পরিণত হচ্ছে। আগে যেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সে বয়ঃসন্ধি আসত, এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে এসেছে। জনমানসে ধারণা রয়েছে যে ব্রয়লার মুরগি, ডিম বা প্যাকেটজাত দুধ এর জন্য দায়ী। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?
মুরগি, দুধ ও ডিম কি সত্যিই ভিলেন?
সাধারণভাবে মনে করা হয় মুরগিতে থাকা হরমোন শিশুদের শরীরে প্রভাব ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর কোনো জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একইভাবে দুধ বা ডিম সরাসরি অকাল পরিপক্কতার কারণ নয়। তবে অতিরিক্ত দুধ বা সুষম খাবারের অভাবে যদি ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তবে তা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
অকাল পরিণতির আসল কারণসমূহ:
- অতিরিক্ত ওজন: ওজনাধিক্য বা ওবেসিটি শিশুদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা দ্রুত ঋতুস্রাবের অন্যতম প্রধান কারণ।
- খাদ্যাভ্যাস: মাত্রাতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটায়।
- জেনেটিক্স: পারিবারিক ইতিহাসে যদি মা বা দিদিদের অল্প বয়সে পিরিয়ড হওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে সন্তানদের ক্ষেত্রেও তা হতে পারে।
- পরিবেশ দূষণ: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার খাওয়া বা প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক হরমোন সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অভিভাবকদের জন্য করণীয়:
১. সুষম আহার: খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, ডাল ও প্রোটিন রাখুন।
২. শারীরিক কসরত: শিশুদের দিনে অন্তত ৩০ মিনিট খেলাধুলা বা ব্যায়ামে উৎসাহিত করুন।
৩. জাঙ্ক ফুড বর্জন: প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৪. প্লাস্টিকের ব্যবহার কমান: প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন।
চিকিৎসকদের মতে, ৮ বছর বয়সের আগে যদি কোনো শিশুর মধ্যে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জীবনযাত্রার পরিবর্তনই পারে শিশুদের সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে।

