কর্ণাটক রাজনীতিতে বড় রদবদলের সংকেত! পুরনোদের বিদায় করে ‘নতুন রক্ত’ চাইছেন ডিকে শিবকুমার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক বিধানসৌধের অলিন্দে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে— মন্ত্রিসভায় কি তবে বড়সড় বদল আসতে চলেছে? খোদ উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার যেভাবে প্রকাশ্যেই ‘নতুন রক্ত’ আমদানির পক্ষে সওয়াল করলেন, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন সিদ্দারামাইয়া সরকারের অন্দরমহলে বড় কোনো পরিবর্তনের সুর বেজে উঠেছে।
পুরনোদের সরে যাওয়ার সময় হয়েছে
বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সাফ জানান, মন্ত্রিসভায় সবসময় পুরনো মুখ ধরে রাখা সম্ভব নয়। দলের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন চিন্তাভাবনা এবং তরুণ প্রজন্মের নেতাদের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিবকুমারের কথায়, “পুরনোরা সারাজীবন পদে থাকতে পারেন না। কংগ্রেসের এখন নতুন রক্ত আর আধুনিক ভাবনার প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে নতুনদের মন্ত্রিসভায় আনার বিষয়টিকে পূর্ণ সমর্থন করি।”
প্রথমবার বিধায়ক হওয়া নেতাদের দাবি
সম্প্রতি কর্ণাটক কংগ্রেসের প্রথমবার জয়ী হওয়া ৩৮ জন বিধায়ক দলের হাইকমান্ডের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন। রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দেওয়া সেই চিঠিতে তাঁদের দাবি, মন্ত্রিসভায় অন্তত ৫ জন নবীন বিধায়ককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের যুক্তি, কর্নাটকের মানুষ নতুন মুখ দেখতে চেয়েছেন বলেই তাঁদের বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন। শিবকুমার এই তরুণ বিধায়কদের দাবির পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা মন্ত্রিসভার রদবদলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
অন্যদিকে, কর্ণাটকে কি তবে দলিত মুখ্যমন্ত্রী আসবে? মন্ত্রিসভার সদস্য এইচ সি মহাদেবাপ্পার সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে নেতৃত্ব বদল বা মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন নিয়ে শিবকুমার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি কৌশলী জবাবে বলেন, “মহাদেবাপ্পা দলের বর্ষীয়ান নেতা, তাঁর কাছে হয়তো কোনো বিশেষ খবর থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে এই মুহূর্তে নেতৃত্ব বদল নিয়ে হাইকমান্ডের কোনো বার্তা নেই।”
দিল্লির ডাক ও কেন্দ্রীয় অনুদান
দিল্লিতে তলব প্রসঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের কিছু কাজের জন্য তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকার বড় শহরগুলোর উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ শহরগুলো যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই বিষয়ে তিনি দরবার করবেন। তবে এই সফরের আড়ালে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে হাইকমান্ডের সাথে কোনো গোপন বৈঠক হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
শিবকুমারের কড়া বার্তা
দলের অন্দরে বিধায়ক ও মন্ত্রীদের লাগামহীন মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিবকুমার স্পষ্ট করে দেন যে, মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। প্রদেশ সভাপতি হিসেবে তাঁর মূল কাজ সংগঠনকে মজবুত রাখা এবং সরকারের লক্ষ্য পূরণে দলকে সাহায্য করা।
কর্ণাটক কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এখন দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিবকুমারের এই ‘প্রজন্ম পরিবর্তনের’ ডাক শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

