কর্তব্যপথে রণহুঙ্কার: ‘অপারেশন সিন্দুর’ ও ‘বন্দেমাতরম’ আবেগে ভাসছে সাধারণতন্ত্র দিবস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: আজ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬। দেশের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজধানী দিল্লির কর্তব্যপথ সাক্ষী হতে চলেছে এক অনন্য সামরিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের। একদিকে যেমন ভারতের অদম্য সামরিক শক্তি প্রদর্শিত হবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে, তেমনই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে দেশাত্মবোধের জোয়ারে ভাসবে গোটা দেশ। এবারের উৎসবের মূল সুর— ‘স্বতন্ত্র কা মন্ত্র বন্দেমাতরম, সমৃদ্ধি কা মন্ত্র আত্মনির্ভর ভারত’।
রণকৌশলের মহড়া: ‘অপারেশন সিন্দুর’
মোদনি সরকারের সাফল্যের অন্যতম খতিয়ান হিসেবে আজ বিশেষ আকর্ষণ হলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’। দিল্লির আকাশে ও মাটিতে এই অপারেশনের রণকৌশল তুলে ধরা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ট্যাবলো সাজানো হয়েছে স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ বীরত্বের কাহিনী দিয়ে। আকাশপথে রাফাল, সুখোই-৩০, জাগুয়ার এবং মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের রোমহর্ষক মহড়া অপারেশন সিন্দুর-এর সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ মিসাইল সিস্টেম এবং এস-৪০০-এর মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি প্রদর্শন করে ভারত আজ বিশ্বকে নিজের স্বনির্ভরতার বার্তা দেবে।
বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর: ঐতিহ্য ও শিল্প
১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের কলমে জন্ম নেওয়া ‘বন্দেমাতরম’ গানটি আজ ১৫০ বছরে পা দিল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। ১৯২৩ সালে শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রর আঁকা ‘বন্দেমাতরম সিরিজ’-এর ছবিগুলি আজ কর্তব্যপথের দর্শক গ্যালারির নেপথ্যে প্রদর্শিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের ট্যাবলোতেও এই থিম প্রাধান্য পাচ্ছে। এমনকি বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থান নৈহাটির কাঁঠালপাড়াতেও আজ সেনাবাহিনীর বিশেষ বাদ্যযন্ত্রের আসর বসবে।
নদীর নামে গ্যালারি ও ‘সিন্ধু’ বিতর্ক
এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের আয়োজনে এক বড় চমক হলো দর্শক গ্যালারির নামকরণ। গঙ্গা, যমুনা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও গোদাবরীর মতো পবিত্র নদীগুলোর নামে গ্যালারির নাম রাখা হয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘সিন্ধু’ নদের নাম। গেরুয়া শিবিরের কট্টরপন্থী একাংশ জাতীয় সঙ্গীত থেকে ‘সিন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়ার দাবি তুললেও, ভারত সরকার কিন্তু সিন্ধু নদের নামাঙ্কিত গ্যালারি রেখেই বুঝিয়ে দিল— ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা আসাম্ভব।
রাষ্ট্রপতির স্যালুট ও পুষ্পবর্ষণ
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২১টি তোপধ্বনির মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশের আমন্ত্রিত অতিথিরা। এমআই-১৭ হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবর্ষণের মাধ্যমে শেষ হবে এই দেড় ঘণ্টার রাজকীয় কুচকাওয়াজ।

