কলকাতা মেট্রোয় মরণঝাঁপ: ৯০ দিনে ৯ বার আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্বেগ বাড়ছে রেল মহলে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে আত্মহত্যার ঘটনা এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন মাসে অর্থাৎ মাত্র ৯০ দিনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ৯ জন। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জনকে কোনোক্রমে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে কড়া নজরদারি, সচেতনতা প্রচার এবং হেল্পলাইন নম্বর চালু করেও এই প্রবণতা রোখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা, চালকদের ওপর বাড়ছে মানসিক চাপ
প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনার জেরে অন্তত এক ঘণ্টা করে ব্যাহত হচ্ছে মেট্রো পরিষেবা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লাইনে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। অফিস যাত্রার ব্যস্ত সময় হোক বা অন্য সময়—যেকোনো মুহূর্তেই ঘটছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এর ফলে চালকদের ওপরও প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, এমন ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চালককে সাময়িকভাবে ডিউটি থেকে সরিয়ে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র
মেট্রো সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্রবণতা গত বছরের শেষ দিক থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে:
- ২০২৫ নভেম্বর: ৩টি ঘটনা
- ২০২৫ ডিসেম্বর: ২টি ঘটনা
- ২০২৬ জানুয়ারি: ৩টি ঘটনা
- ২০২৬ ফেব্রুয়ারি: ১টি ঘটনা (এখনও পর্যন্ত)
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। ২০২২ সালে ৫ জন, ২০২৩ সালে ৪ জন এবং ২০২৪ সালে ৭ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫-এর শেষ থেকে ২০২৬-এর শুরুতেই এই সংখ্যাটি বড় আকার নিয়েছে।
কেন রোখা যাচ্ছে না এই প্রবণতা?
আত্মহত্যা রুখতে কালীঘাট স্টেশনে গার্ডরেল বসানোর পর সেখানে সুফল পাওয়া গিয়েছে। তবে ময়দান, মাস্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি বা গিরিশ পার্কের মতো অন্য স্টেশনগুলোতে গার্ডরেল বা আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি এখনও ফাইলবন্দি হয়ে আছে বলে অভিযোগ।
হেল্পলাইনে মিলছে না সাড়া
মানসিক অবসাদগ্রস্তদের সাহায্য করতে প্রতিটি স্টেশনে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেউ অন্তত একবার ফোন করলে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের ফেরানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নম্বরে ফোন করার প্রবণতা নেই বললেই চলে। ফলে পাতালপথের এই মৃত্যুমিছিল শহরবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

