কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মানসিক রোগীর ভয়াবহ তাণ্ডব, ওপিডিতে চরম আতঙ্ক
শনিবার দুপুরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল আউটডোর বা ওপিডিতে এক নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। জানা গিয়েছে, ২২ বছর বয়সি এক মানসিক রোগী আচমকাই উন্মাদের মতো আচরণ শুরু করেন। তিনি হাসপাতালের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করার পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মারধর করতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে ব্যস্ত ওপিডি চত্বরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এবং প্রাণ বাঁচাতে মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অঞ্জন অধিকারী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যার ওষুধ খাচ্ছিলেন। তবে রোজা রাখার কারণে গত এক মাস ধরে তিনি সকালের ওষুধ খাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন, যা তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। শনিবার আউটডোরে চিকিৎসার জন্য এলে হঠাৎ তাঁর সমস্যা বৃদ্ধি পায় এবং তিনি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করার পর দীর্ঘ চেষ্টার শেষে ওই যুবককে শান্ত করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, মনোরোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের ডোজের সামান্য অনিয়মও যে কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করার দাবি উঠছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই রোগী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ওপিডির পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে।
